বাংলাদেশ ও নাইজেরিয়ার মধ্যে ওষুধ শিল্প খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশের ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর এবং নাইজেরিয়ার ন্যাশনাল এজেন্সি ফর ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড কন্ট্রোল বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
নাইজেরিয়ার আবুজাতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এই আলোচনার আয়োজন করা হয়। হাইকমিশন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে একটি কার্যকর ওষুধ শিল্প অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় এই আলোচনা একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আলমগীর হোসেন। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন নাইজেরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মিয়া মো. মাইনুল কবির এবং ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অন্যদিকে, নাইজেরিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির ন্যাশনাল এজেন্সি ফর ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড কন্ট্রোল বিভাগের মহাপরিচালক অধ্যাপক মোজিসোলা ক্রিশ্চিয়ানাহ আদেয়েয়ে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক মোজিসোলা ক্রিশ্চিয়ানাহ আদেয়েয়ে ওষুধ খাতে, বিশেষ করে স্থানীয় উৎপাদনে বাংলাদেশের অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি নাইজেরিয়ার বাজারে প্রবেশ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি প্রস্তুতকারকদের জন্য বাজার সুবিধা, নিবন্ধন এবং পরিদর্শন সংক্রান্ত নিয়মাবলী বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। অধ্যাপক আদেয়েয়ে প্রযুক্তি হস্তান্তর, বায়োলজিক্স ও ভ্যাকসিন, ফিল-অ্যান্ড-ফিনিশ উৎপাদন এবং এপিআই বিশ্লেষণ ও আমদানিকে নাইজেরিয়ার প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেন। একই সঙ্গে তিনি ন্যাশনাল এজেন্সি ফর ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড কন্ট্রোল বিভাগের ‘৫+৫’ নীতি অনুযায়ী যৌথ ওষুধ উৎপাদনের প্রস্তাব দেন।
নাইজেরিয়ার পক্ষ থেকে ওষুধ খাতে সহযোগিতার জন্য একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। জবাবে বাংলাদেশের ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আলমগীর হোসেন উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ তার দেশীয় ওষুধের চাহিদার ৯৮ শতাংশ স্থানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণ করে এবং বিদেশেও রপ্তানি করে। তিনি নাইজেরিয়ার বাজারে প্রবেশে বাংলাদেশি প্রস্তুতকারকদের আগ্রহের কথা জানান। এছাড়া বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল নাইজেরিয়ার বাজারে ভ্যাকসিনের চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চালানোর প্রস্তাব করে। পাশাপাশি ভ্যাকসিন ও বায়োসিমিলার উৎপাদনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান দক্ষতা এবং বেশ কয়েকটি প্রস্তুতকারকের নিজস্ব এপিআই উৎপাদন সক্ষমতার কথা তুলে ধরা হয়।
আলোচনার প্রেক্ষিতে উভয় পক্ষ দুটি কারিগরি কমিটি গঠনে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে একটি হবে বাংলাদেশের ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও নাইজেরিয়ার ন্যাশনাল এজেন্সি ফর ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড কন্ট্রোল বিভাগের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ। অন্যটি হবে দুই দেশের সরকারি ও শিল্প প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত একটি বৃহত্তর বহু-অংশীজন কমিটি। এই কমিটিগুলো প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকের সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করবে এবং এপিআই রপ্তানি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, যৌথ উৎপাদন ও কারিগরি সহযোগিতার পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সুপারিশ করবে।
সমাপনী বক্তব্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. মাইনুল কবির এই গঠনমূলক আলোচনাকে স্বাগত জানান। তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অব্যবহৃত বিশাল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন। দুই দেশের ওষুধ শিল্প খাতের সক্ষমতা যাচাইয়ে নাইজেরিয়ার একটি প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশ সফরের এবং শক্তিশালী ব্যবসায়িক যোগাযোগ (বিটুটি) গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন তিনি। এই অংশীদারত্বকে এগিয়ে নিতে হাইকমিশনের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।