ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বিখ্যাত তীর্থক্ষেত্র তারাপীঠে একটি পাঁচতলা আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার ভোরে এই দুর্ঘটনায় অন্তত আটজন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় হোটেলটি থেকে ৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

উদ্ধার কাজে নিয়োজিত ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের মতে, সাধক বামাক্ষ্যাপার সাধনার পুণ্যভূমি তারাপীঠ মন্দির ও স্থানীয় তারাপীঠ থানার খুব কাছেই অবস্থিত ছিল ওই হোটেলটি। ভোরবেলায় ‘বিদেশিনী’ নামের আবাসিক হোটেলটিতে আগুন লাগলে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ৪৩ জন পুণ্যার্থীকে উদ্ধার করে রামপুরহাটের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত আটজনের মধ্যে পাঁচজন মেঘালয় রাজ্যের এবং তিনজন পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ারের বাসিন্দা।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র শ্রাবণ মাস উপলক্ষে শিবপূজা ও তারাপীঠের মা তারা মন্দিরে পূজা দিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রচুর পুণ্যার্থী সেখানে আসেন। তাদের অনেকেই স্থানীয় বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করছিলেন। ভোর চারটার দিকে পাঁচতলা ওই হোটেলে হঠাৎ চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ভবন ধোঁয়া ও আগুনে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।

তদন্তে জানা গেছে, হোটেলের সামনের অংশে থাকা রেস্তোরাঁয় আগুন ছড়িয়ে পড়ায় সম্মুখভাগ দিয়ে বের হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, হোটেলের পেছনের জরুরি বহির্গমন ফটকটি (ইমার্জেন্সি গেট) তালাবদ্ধ থাকায় ভেতরে আটকা পড়া অনেকে ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে মারা যান। প্রাণ বাঁচাতে অনেক পুণ্যার্থী হোটেলের ব্যালকনি থেকে পাশের গাছ বেয়ে অথবা নিচে লাফ দিয়ে জীবন রক্ষা করেন।

দুর্ঘটনার সময় হোটেলের অগ্নিনির্বাপক সতর্কবার্তা (ফায়ার অ্যালার্ম) বাজেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে হোটেলটি অগ্নিনির্বাপণবিধি মেনে নির্মিত হয়েছিল কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটকে আগুনের কারণ হিসেবে ধারণা করছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে রাজ্যের ফায়ার সার্ভিস একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।