প্রিন্স হ্যারি ও তাঁর স্ত্রী মেগান মার্কেল ২০২০ সালে ব্রিটিশ রাজপরিবারের দায়িত্ব ছেড়ে ক্যালিফোর্নিয়া চলে যান। সেখানে নেটফ্লিক্স ও স্পটিফাইয়ের সঙ্গে কোটি কোটি ডলারের চুক্তিতে চলচ্চিত্র, তথ্যচিত্র ও পডকাস্টে কাজ করেন। এখন সন্তানদের যুক্তরাজ্যের স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেশে ফিরছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার স্বপ্ন, হলিউডে ব্যবসা ও তারকাখ্যাতি—সবকিছু ছেড়ে কেন দেশে ফিরছেন তাঁরা? এ নিয়েই নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ।
.শুরুটা হয়েছিল অনেক আশা নিয়ে। ২০২০ সালে ডিউক ও ডাচেস অব সাসেক্স হলিউডে পা রাখেন। সঙ্গে ছিল নেটফ্লিক্সের সঙ্গে কয়েক কোটি ডলারের চুক্তি। ব্রিটিশ রাজপরিবারের বিরাগভাজন এ দম্পতি তখন অনুপ্রেরণামূলক নানা অনুষ্ঠান তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
দুই বছর পর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় ছয় পর্বের তথ্যচিত্র হ্যারি অ্যান্ড মেগান। ব্রিটেন ছেড়ে তাঁদের চলে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে তৈরি তথ্যচিত্রটি মুক্তির শুরুতেই ২ কোটি ৩৪ লাখবার দেখা হয়। নেটফ্লিক্সে কোনো তথ্যচিত্র মুক্তির প্রথম চার দিনে এত দর্শক পাওয়ার ঘটনা এর আগে ঘটেনি। মুক্তির পর থেকে এ পর্যন্ত এটি মোট ৭ কোটিবার দেখা হয়েছে।
কিন্তু এরপর হ্যারি ও মেগানের তৈরি আর কোনো অনুষ্ঠান নেটফ্লিক্সে এমন সাফল্য পায়নি। বিশ্বনেতাদের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাত পর্বের অনুষ্ঠান ‘লিভ টু লিড’ কিংবা খেলা নিয়ে তথ্যচিত্র ‘পোলো’, কোনোটিই আগের সাফল্যের ধারেকাছে যেতে পারেনি।
২০২৫ সালে নেটফ্লিক্স এ দম্পতির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেনি। স্পটিফাইয়ের সঙ্গে একই ধরনের বড় অঙ্কের আরেকটি চুক্তিও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
.হ্যারি ও মেগান কেন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলের স্বপ্নময় জীবন ছেড়ে যাচ্ছেন—এ সপ্তাহে এমন প্রশ্ন উঠেছে অনেক মার্কিনের মনে। হলিউডের পর্যবেক্ষকেরা এর মধ্যে সাউথ ক্যালিফোর্নিয়ার বিনোদনজগতের পুরোনো একটি গল্পই দেখতে পাচ্ছেন। আর সেটি শোবিজে সাফল্যের স্বপ্ন পূরণ না হওয়ার গল্প।.
হ্যারি ও মেগান কেন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলের স্বপ্নময় জীবন ছেড়ে যাচ্ছেন—এ সপ্তাহে এমন প্রশ্ন উঠেছে অনেক মার্কিনের মনে। হলিউডের পর্যবেক্ষকেরা এর মধ্যে সাউথ ক্যালিফোর্নিয়ার বিনোদনজগতের পুরোনো একটি গল্পই দেখতে পাচ্ছেন। আর সেটি শোবিজে সাফল্যের স্বপ্ন পূরণ না হওয়ার গল্প।
লস অ্যাঞ্জেলেসের সংস্কৃতিবিষয়ক ইতিহাসবিদ এবং ‘দ্য ফ্রেনজি অব রিনাউন: ফেম অ্যান্ড ইটস হিস্ট্রি’ বইয়ের লেখক লিও ব্রাউডি বলেন, ‘জায়গাটি ঘিরে সব সময় একধরনের আকর্ষণ কাজ করে। সবাই ভাবেন, “আমি সুন্দর” কিংবা “আমি সুদর্শন”। সবাই মনে করেন, “ওই মানুষেরা যদি হলিউডে সফল হতে পারেন, তাহলে আমিও পারব।”’
কিন্তু বেশির ভাগ মানুষই এ জগতে সফল হতে পারেন না বলে মন্তব্য করেন ব্রাউডি। ইতিহাসে দেখা গেছে, সম্পদশালী ও ক্ষমতাবান অনেক মানুষও ভুল করে ভেবেছেন যে অন্যান্য ক্ষেত্রে তাঁদের সাফল্য বিনোদনজগতেও আপনা-আপনি সাফল্য এনে দেবে।
লিও ব্রাউডি বলেন, ‘বিনোদনজগতে সফল হওয়ার সহজ কোনো পথ থাকলে হলিউডে এত ব্যর্থ কাজ তৈরি হতো না।’
.বিনোদনজগতে সফল হওয়ার সহজ কোনো পথ থাকলে হলিউডে এত ব্যর্থ কাজ তৈরি হতো না।লিও ব্রাউডি, লস অ্যাঞ্জেলেসের সংস্কৃতিবিষয়ক ইতিহাসবিদ
হ্যারি ও মেগান ইংল্যান্ডে ফিরে যাচ্ছেন—তাঁদের এ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা এ তথ্য নিশ্চিত করার পর চলতি সপ্তাহে আটলান্টিকের দুই পারেই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ছয় বছর আগে রাজপরিবারের সঙ্গে বিরোধের পর এ দম্পতি নিজেরাই ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে গিয়েছিলেন। মেগান অবশ্য সেখানেই বড় হয়েছেন। একসময় লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিনয়ও করতেন তিনি।
ক্যালিফোর্নিয়ার ধনীদের এলাকা মন্টেসিটোর বিশাল একটি বাড়িতে বসবাস শুরু করেন হ্যারি–মেগান। সেখানেই তাঁদের দুই সন্তান—৭ বছর বয়সী আর্চি ও ৫ বছর বয়সী লিলিবেটকে বড় করছিলেন।
তবে হ্যারি ও মেগান এখন তাঁদের দুই সন্তানকে ব্রিটেনের একটি স্কুলে ভর্তি করেছেন। আগামী মাসে স্কুলে পাঠদান শুরু হওয়ার সময়ের সঙ্গে মিল রেখেই ব্রিটেনে ফিরছেন তাঁরা। এ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা নিউইয়র্ক টাইমসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ব্রিটেনে ফিরে হ্যারি–মেগান নতুন কোনো ব্যবসা শুরু করবেন কি না কিংবা কোথায় থাকবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ২০২৩ সালে তাঁদের উইন্ডসর ক্যাসল প্রাঙ্গণের সরকারি বাসভবন ছেড়ে দিতে বলা হয়েছিল বলে সে সময় জানিয়েছিলেন এ দম্পতির প্রেস সচিব।
.স্পটিফাইয়ের নির্বাহী ও জনপ্রিয় পডকাস্টার বিল সিমন্স আরও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছিলেন। ২০২৩ সালে স্পটিফাইয়ের সঙ্গে চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর একটি পডকাস্টে অশালীন শব্দ ব্যবহার করে তিনি হ্যারি ও মেগানকে ‘প্রতারক’ বলে অভিহিত করেন।.
তবে হ্যারি ও মেগানের একজন প্রতিনিধি গত শুক্রবার তাঁদের ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার সিদ্ধান্তকে স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এক বিবৃতিতে ওই প্রতিনিধি বলেন, ‘এই গ্রীষ্মে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে চমৎকার সময় কাটানোর পর হ্যারি ও মেগান শরৎকালে দীর্ঘ সময় যুক্তরাজ্যে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পারিবারিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দেশটিতে তাঁদের সন্তানেরা আরও বেশি সময় কাটাতে পারবে বলে তাঁরা আনন্দিত।’
গত বছর নেটফ্লিক্স হ্যারি ও মেগানের সঙ্গে সামগ্রিক চুক্তি নবায়ন না করার পর থেকেই তাঁদের আর্থিক সম্ভাবনা সংকুচিত হতে শুরু করে।
আগের চুক্তির বদলে নেটফ্লিক্স হ্যারি–মেগানের সঙ্গে অনেক কম আর্থিক সুবিধার একটি চুক্তি করে। সেটি এখনো চালু আছে। নতুন ব্যবস্থায় হ্যারি ও মেগান কোনো অনুষ্ঠান বা চলচ্চিত্র তৈরি করলে এবং নেটফ্লিক্স সেটি প্রচারে আগ্রহী হলেই শুধু তাঁরা অর্থ পাবেন। অবশ্য তাঁদের প্রতিষ্ঠান আর্চওয়েল প্রোডাকশনসের জন্য হলিউডের রলি স্টুডিওসে কার্যালয়ের ভাড়া এখনো বহন করছে নেটফ্লিক্স।
এর বাইরে নেটফ্লিক্স মেগানের সঙ্গে তাঁর নতুন লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড ‘অ্যাজ এভার’ নিয়ে একটি যৌথ ব্যবসায়িক চুক্তি করে। মেগানের টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘উইথ লাভ, মেগান’–কে ভিত্তি করে ব্র্যান্ডটি গড়ে উঠছিল। চুক্তির আওতায় ২৮ ডলারের কমলালেবুর ফুলের মধু ও ১৪ ডলারের এপ্রিকট ফলের জ্যামের মতো পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
.শেষ পর্যন্ত দেখা গেল, মেগান মার্কেল অডিওর জন্য খুব ভালো প্রতিভা নন; এমনকি অন্য কোনো ক্ষেত্রেও তাঁর বিশেষ প্রতিভা আছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। শুধু বিখ্যাত হলেই যে কেউ কোনো কাজে ভালো হবেন, তা নয়।
নেটফ্লিক্সের ভোক্তাপণ্য বিভাগ এসব পণ্য তৈরি করত। পণ্য বিক্রির আয় নেটফ্লিক্স ও মেগানের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভাগ হতো।
কিন্তু অনুষ্ঠানটি নেটফ্লিক্সের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। প্রথম কিস্তি দেখা হয়েছে ৬১ লাখবার, দ্বিতীয় কিস্তি ২৩ লাখবার ও বড়দিনের বিশেষ পর্ব ২৬ লাখবার।
এরপর নেটফ্লিক্স আর নতুন কোনো পর্ব নির্মাণের অনুমোদন দেয়নি। গত মার্চে মেগানের ব্র্যান্ডটির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগও শেষ করে প্রতিষ্ঠানটি। এখন সব ভোক্তাপণ্য মেগানের নিজের প্রতিষ্ঠানই পরিচালনা করছে। ব্র্যান্ডটির ওয়েবসাইটে অবশ্য ১২ ডলারের ব্ল্যাকবেরি জ্যাম এখনো পাওয়া যাচ্ছে।
পডকাস্ট জগতেও হ্যারি ও মেগানের যাত্রা পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়নি। ২০২০ সালে স্পটিফাইয়ের সঙ্গে ২ কোটি ডলারের চুক্তি করেন তাঁরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁরা শুধু আর্কিটাইপস নামের একটি পডকাস্টের একটিমাত্র পর্ব তৈরি করেন। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করতেন মেগান। এতে সেরেনা উইলিয়ামস ও প্যারিস হিলটনের মতো অতিথিদের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন তিনি।
এদিকে হ্যারি কোনো অনুষ্ঠানই তৈরি করেননি। যদিও প্রায় এক বছর ধরে স্পটিফাইয়ের সঙ্গে বিভিন্ন ধারণা নিয়ে কাজ করেছিলেন। এ দম্পতির ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির মতে, এসব ধারণার একটি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে হ্যারির হট চকলেটের স্বাদ পরীক্ষা করে অনুষ্ঠান তৈরি করা।
তিন বছরের চুক্তির আওতায় মোট ১২ পর্বের একটি কিস্তি ছাড়া আর কিছু তৈরি হয়নি। তাই চুক্তির পুরো অর্থ হ্যারি–মেগান পেয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে তাঁদের এক প্রতিনিধি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। স্পটিফাইও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
.স্পটিফাইয়ের সঙ্গে চুক্তিটি ভেস্তে যাওয়ার এক সপ্তাহ পর ২০২৩ সালে কান লায়ন্স বিপণন উৎসবে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম সেমাফোরকে সাক্ষাৎকার দেন ইউনাইটেড ট্যালেন্ট এজেন্সির তৎকালীন প্রধান জেরেমি জিমার। সমস্যাটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত দেখা গেল, মেগান মার্কেল অডিওর জন্য খুব ভালো প্রতিভা নন; এমনকি অন্য কোনো ক্ষেত্রেও তাঁর বিশেষ প্রতিভা আছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। শুধু বিখ্যাত হলেই যে কেউ কোনো কাজে ভালো হবেন, তা নয়।’
স্পটিফাইয়ের নির্বাহী ও জনপ্রিয় পডকাস্টার বিল সিমন্স আরও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছিলেন। ২০২৩ সালে স্পটিফাইয়ের সঙ্গে চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর একটি পডকাস্টে অশালীন শব্দ ব্যবহার করে তিনি হ্যারি ও মেগানকে ‘প্রতারক’ বলে আখ্যায়িত করেন।
মেগানের সাম্প্রতিক প্রকল্প ‘কুকি কুইনস’। গার্ল স্কাউট সদস্যদের বিস্কুট বিক্রির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তৈরি তথ্যচিত্রটির নির্বাহী প্রযোজক ছিলেন তিনি। ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে খুব বড় সাফল্য পায়নি। এমনকি ইন্টারনেটের সেরা বিড়ালের ভিডিওগুলো নিয়ে তৈরি ‘ক্যাটভিডিওফেস্ট ২০২৬’ ছবিটিও এর চেয়ে বেশি আয় করেছে।
তবে পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান রোডসাইড অ্যাট্রাকশনসের মাধ্যমে ছবিটি (মেগানের তৈরি কুকি কুইনস) মুক্তি দেওয়া হাওয়ার্ড কোহেনের মতে, শেষ পর্যন্ত এটি সফল হবে।
মাত্র ৪৪৬টি পর্দায় মুক্তি পাওয়া এ ছবির বক্স অফিস আয় প্রায় ১০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে ভাড়ার বিনিময়ে ছবিটি দেখা যাবে। বর্তমানে প্রেক্ষাগৃহে তথ্যচিত্রের ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না। এর মধ্যেও কোনো তারকাকে নিয়ে তৈরি নয়—এমন তথ্যচিত্রগুলোর মধ্যে চলতি বছর এ পর্যন্ত এটিই সর্বোচ্চ আয় করেছে।
.ব্রিটেনে হ্যারি ও মেগানের নতুন জীবন তাঁদের বিনোদন ব্যবসার সম্ভাবনার ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো অনিশ্চিত। হলিউডে স্বপ্ন পূরণ না হওয়া আরও অনেকের মতোই তাঁরাও সেখান থেকে চলে যাচ্ছেন। তবে ভবিষ্যতে ফিরে আসার সম্ভাবনা একেবারে নাকচ করেননি।.
হাওয়ার্ড কোহেন এক সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রথম প্রদর্শনীর সময় সানড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবে উপস্থিত ছিলেন মেগান। পরে লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ওহাই শহরে তিনি ছবিটির প্রদর্শনীতে অংশ নেন। মেগানের উপস্থিতি ছবিটির আয় বৃদ্ধি করতে সহায়তা করেছে।
আগামী বসন্তে অ্যামাজন প্রাইমে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে ‘ক্লোজ পারসোনাল ফ্রেন্ডস’ ছবির। এতে মেগানকেও দেখা যাবে। সান্তা বারবারার পটভূমিতে তৈরি ছবিটিতে অভিনয় করেছেন ব্রি লারসন ও লিলি কলিন্স। অতিথি চরিত্রে মেগান নিজের ভূমিকাতেই অভিনয় করেছেন।
নেটফ্লিক্সের অপরাধবিষয়ক ধারাবাহিক ‘দ্য জেন্টলমেন’–এর তৃতীয় কিস্তিতেও অভিনয়ের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা চালাচ্ছেন ডাচেস অব সাসেক্স। চুক্তি হলে মেগান ব্রিটেনে ওই চরিত্রের শুটিং করবেন। তবে ধারাবাহিকটির দ্বিতীয় কিস্তি এখনো প্রচারিত হয়নি। তৃতীয় কিস্তি নির্মাণের অনুমোদনও এখনো দেয়নি নেটফ্লিক্স।
হলিউডের অন্তত একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি হ্যারি ও মেগানের ব্রিটেনে ফেরার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
.রাজপরিবার ছাড়ার ৬ বছর পর যুক্তরাজ্যে ফিরছেন হ্যারি ও মেগান.চলতি বছর লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হওয়া রিয়েলিটি টেলিভিশন তারকা স্পেনসার প্র্যাট বলেন, ‘খবরটি শুনে আমার প্রথম মনে হয়েছে, বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত! এখানকার বিপরীতে যুক্তরাজ্যের বিনোদন ব্যবসা এখন দ্রুত বাড়ছে।’
স্পেনসার জানান, তাঁর স্ত্রী ও রিয়েলিটি টেলিভিশন তারকা হেইডি মন্ট্যাগ মেগানের জীবনযাপনবিষয়ক অনুষ্ঠানটির ভক্ত। প্রিন্স হ্যারি রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে পারেন, এমন সম্ভাবনার কথা শুনে চলতি সপ্তাহে তিনি ‘খুব আবেগপ্রবণ’ হয়ে পড়েছিলেন।
স্পেনসার প্র্যাট বলেন, ব্রিটেনে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণের জন্য যেসব করসুবিধা পাওয়া যায়, সেগুলো ক্যালিফোর্নিয়ার তুলনায় বেশি উদার। হ্যারি ও মেগান চিত্রধারণের পটভূমি হিসেবে নিজেদের ‘প্রাসাদ ও দুর্গগুলোও’ ব্যবহার করতে পারবেন।
স্পেনসার আরও বলেন, ‘ব্যবসায়িক দিক থেকে আমার মনে হয়, ইংল্যান্ডে বসে নেটফ্লিক্স, প্যারামাউন্ট প্লাস কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য অনুষ্ঠান তৈরির সম্ভাবনা তাঁদের বেশি। ব্যক্তিগতভাবে আমি এখনই “উইথ লাভ, মেগান অ্যান্ড হ্যারি: ব্যাক টু দ্য পন্ড”–এর মতো একটি কিস্তি দেখতে রাজি।’
.হ্যারি-মেগানের সংসার টানাপোড়েনের মুখে.ব্রিটেনে হ্যারি ও মেগানের নতুন জীবন তাঁদের বিনোদন ব্যবসার সম্ভাবনার ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো অনিশ্চিত। হলিউডে স্বপ্ন পূরণ না হওয়া আরও অনেকের মতোই তাঁরাও সেখান থেকে চলে যাচ্ছেন। তবে ভবিষ্যতে ফিরে আসার সম্ভাবনা একেবারে নাকচ করেননি।
হ্যারি ও মেগানের একজন প্রতিনিধি বলেন, তাঁদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম আগের মতোই চলবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও তাঁদের সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন হচ্ছে না। কারণ, মন্টেসিটোয় ১ কোটি ৪৫ লাখ ডলার দামের বাড়িটি তাঁরা রেখে দিচ্ছেন।
.হ্যারি–মেগান যুক্তরাজ্যে ফিরলে কি সরকারি নিরাপত্তা পাবেন