দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় চলমান বিদ্যুৎ সংকটে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের অভিযোগ উঠলেও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নিজ সংসদীয় আসন সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) এলাকায় পরিস্থিতি ভিন্ন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই আসনে লোডশেডিং তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ঝড়-বৃষ্টি বা কারিগরি ত্রুটি ছাড়া সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটে না।

তবে মন্ত্রীর নির্বাচনি আসন বাদে জেলার উল্লাপাড়া, বেলকুচি, শাহজাদপুর, চৌহালী ও রায়গঞ্জ উপজেলার গ্রামাঞ্চলে চরম লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তির শিকার সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে অব্যাহত এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিশু, বয়স্ক ও নারীদের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। জানা গেছে, উপজেলা সদরগুলোতে লোডশেডিং কিছুটা কম হলেও গ্রামীণ এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি বেশ নাজুক।

সিরাজগঞ্জ সদর ও কামারখন্দ এলাকার বাসিন্দাদের ভাষ্য, এখানে বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটলে তা মূলত ঝড়ে তার ছিঁড়ে যাওয়া কিংবা কারিগরি ত্রুটির কারণে হয় এবং সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যেই সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যায়। হোসেনপুর পৌরসভার বাসিন্দা বেল্লাল হোসেন বলেন, "তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ খুব কম সময়ই যায়।" কামারখন্দ উপজেলার একাধিক বাসিন্দা জানান, "কামারখন্দ ও সিরাজগঞ্জ সদর এলাকায় একপ্রকার লোডশেডিং নেই বললেই চলে। মাঝেমধ্যে বিদ্যুৎ গেলেও তা ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই আবার চলে আসে।"

সদর পৌরসভার বাসিন্দা রিপন জানান, পাশের অন্যান্য উপজেলায় চরম বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর শুনলেও সদর এলাকায় লোডশেডিং তুলনামূলকভাবে একেবারেই কম। ভদ্রঘাট এলাকার বাসিন্দা হাসান মন্তব্য করেন, "এটি মন্ত্রীর এলাকা হওয়ায় লোডশেডিং কম হয়। বিদ্যুৎ গেলেও ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে চলে আসে। তবে ঝড়-বৃষ্টি হলে কখনো কখনও ১ থেকে ২ ঘণ্টাও লেগে যায়।"

অন্যদিকে, বিপরীত চিত্র দেখা গেছে রায়গঞ্জ ও বেলকুচি উপজেলায়। রায়গঞ্জ উপজেলার পশ্চিম আটঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা উপেন্দ্র নাথ মাহাতো বলেন, "কয়েক দিন আগে দিনে-রাতে সাত থেকে আটবার পর্যন্ত বিদ্যুৎ গেছে। কোনো কোনো দিন আট থেকে নয় ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকত না। তবে গত দুই-এক দিন ধরে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।"

বেলকুচি উপজেলার তাঁত শ্রমিক সবুজ মিয়া জানান, "গত কয়েক দিন ধরে দিনে তিন থেকে চারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়েছে। প্রতিবার আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন দারুণভাবে ব্যাহত হয়েছে। তবে গত বৃহস্পতিবার থেকে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।"

বেলকুচির তামাই এলাকার একটি তাঁত কারখানার ব্যবস্থাপক (মাস্টার) আলী আলহাজ বলেন, "মাঝে মাঝেই লোডশেডিং হয়। তবে অন্যান্য জায়গার চেয়ে এই উপজেলায় কিছুটা কম। বিদ্যুৎ চলে গেলে আমাদের বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালু রাখতে হয়। এতে মাসে অতিরিক্ত তিন থেকে চার হাজার টাকার ডিজেল খরচ হয়।"

সার্বিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ও চাহিদার বিষয়ে জানতে চাইলে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুন নুর বলেন, "আমাদের চাহিদা অনুযায়ী বর্তমানে সরবরাহ রয়েছে। সিরাজগঞ্জ সদরে কোনো লোডশেডিং নেই। তবে চাহিদা ও সরবরাহের পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়। এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট তথ্য আমার কাছে নেই।"