পড়াশোনার পাশাপাশি বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী পেশাদার কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে নিজেদের মেলে ধরছেন। কেউ করছেন ভালো আয়, আবার কেউ ভবিষ্যতের অভিজ্ঞতার কথা ভেবেই ক্যাম্পাস জীবন থেকেই কনটেন্ট তৈরিতে হাত পাকিয়েছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি এই সৃজনশীল যাত্রার অভিজ্ঞতা জানতে আমরা কথা বলেছি কয়েকজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সাথে। এই সিরিজের তৃতীয় পর্বে নিজের অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিন ইয়ামিন।
বিন ইয়ামিন জানান, তিনি রেজোয়ান সরকার, রাজু ইসলাম, সীমান্ত দত্ত এবং সাব্বির হোসেন—এই পাঁচ বন্ধু মিলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন কনটেন্ট তৈরি করেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত বিন ইয়ামিন বলেন, ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, টিউটোরিয়াল আর পরীক্ষার একঘেয়েমি দূর করতেই তারা এই রঙিন যাত্রা শুরু করেছিলেন।
তাদের ভিডিওর মূল উপজীব্য হলো ক্যাম্পাস জীবনের নানা মজার ঘটনা এবং বন্ধুদের মধ্যকার খুনসুটি। হলে থাকার জটিলতা, ক্যানটিনের আড্ডা, পরীক্ষার আগের রাতের উৎকণ্ঠা কিংবা ক্লাসরুমের রসিকতাকে তারা সহজ-সরল ও হাস্যরসাত্মকভাবে ক্যামেরাবন্দি করেন। বিন ইয়ামিনের মতে, এই কাজের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অনন্য পরিবেশ। তিনি বলেন, "চারপাশের ঘন সবুজ পাহাড়, ঝরনা আর বিশাল উন্মুক্ত প্রান্তর যেন আমাদের প্রতিটি ভিডিওর জন্য আলাদা সেট বানিয়ে রাখে।"
অন্যান্য অনেক ক্রিয়েটর যেখানে ইনডোর বা কৃত্রিম সেটের ওপর নির্ভর করেন, সেখানে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসটিই তাদের ক্যানভাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে বিন ইয়ামিন জানান, কনটেন্ট তৈরি করলেও তার ভবিষ্যতের লক্ষ্য বিসিএস।
সৃজনশীল কাজের পাশাপাশি তারা কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখিও হচ্ছেন। পড়াশোনার চাপ বাড়লে অনেক সময় নতুন ভিডিও বানানোর সুযোগ মেলে না। এছাড়া ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে ঢাকার বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান বা ব্র্যান্ডগুলোর সাথে সরাসরি যোগাযোগ বা তাৎক্ষণিক মিটিংয়ের সুযোগ কিছুটা কম। আয়ের পরিমাণ খুব বেশি না হলেও এই সীমাবদ্ধতার মাঝেও বেশ কিছু নামী ব্র্যান্ড ও টেলিকম কোম্পানির সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন তারা।
সম্প্রতি তাদের এই যাত্রায় যুক্ত হয়েছে এক অভাবনীয় সাফল্য। এক সপ্তাহ আগে তাদের সোশ্যাল মিডিয়া পেজটি ১ মিলিয়ন বা ১০ লাখ ফলোয়ারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। বিন ইয়ামিন উচ্ছ্বস করে বলেন, "স্রেফ ভালো লাগা আর আড্ডার ছলে শুরু হয়েছিল, তা আজ ১০ লাখ মানুষের ভালোবাসায় রূপ নিয়েছে।"
ক্যাম্পাস থেকে হলে আসা-যাওয়ার পথেই ছোটখাটো কনটেন্ট বানিয়ে ফেলার মাধ্যমে তারা তাদের এই সৃজনশীল চর্চাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।