রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় নৈশপ্রহরীদের জিম্মি করে তিনটি জুয়েলারি ও একটি ওষুধের দোকানে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ৮-১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল চারটি দোকানের তালা ভেঙে স্বর্ণালংকার, রুপা ও নগদ টাকাসহ মোট ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।
ঘটনাটি রোববার (১৬ আগস্ট) রাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের হাট বনগ্রাম বাজারের রফিক উদ্দিন শপিং কমপ্লেক্সে ঘটে বলে জানা গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে মুখাবৃত ৮-১০ জনের একদল ডাকাত শপিং কমপ্লেক্সে প্রবেশ করে। তারা সেখানে কর্মরত নৈশপ্রহরী কালু ও জাকিরকে জিম্মি করে তাদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। এরপর তাদের মার্কেট থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে একটি মাঠে ফেলে রেখে চার দোকানে লুটপাট চালায়। বাজারের অন্য অংশে অন্য এক নৈশপ্রহরী থাকায় ডাকাতদের এই তৎপরতা তাৎক্ষণিকভাবে টের পাননি তিনি।
লুটপাটের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্যারান্টি জুয়েলার্সের মালিক শ্যামল কুমার মজুমদার জানান, তার দোকান থেকে দেড় ভরি স্বর্ণ, ৬৫ ভরি রুপা ও ৭০টি নাকফুলসহ প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকার মালামাল লুট হয়েছে। সুস্মিতা জুয়েলারর্সের মালিক পংকজ বিশ্বাস জানান, তার ৮ আনা স্বর্ণ, ২৯ ভরি রুপা ও ২০টি নাকফুলসহ ২ লাখ ১৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন লক্ষ্মী জুয়েলার্সের মালিক কৃষ্ণপদ বিশ্বাস। তিনি বলেন, "দোকান থেকে দেড় ভরি স্বর্ণ ও ২০০ ভরি রুপাসহ মোট ১১ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে। ভোরে খবর পেয়ে এসে দেখি দোকানের সর্বস্ব লুট হয়ে গেছে।"
এছাড়া রাহুল ফার্মেসির ক্যাশ বাক্সের তালা ভেঙে নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায় ডাকাত দলটি। ব্যবসায়ীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, চারটি দোকান থেকে সর্বমোট ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকার সম্পদ লুট হয়েছে।
এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাঈনুল ইসলাম বলেন, "খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে পুলিশি তদন্ত চলছে।"