অর্থ পাচার ও ব্যাংক থেকে অর্থ লুটপাটের গুরুতর অভিযোগ থাকা এস আলম গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডকে সব ধরনের পণ্য শতভাগ বাকিতে আমদানির বিশেষ সুযোগ প্রদান করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবস্থিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পণ্য আমদানির পুরো অর্থায়ন করতে পারবে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক। এর ফলে কাঁচামাল আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে এসএস পাওয়ার-১-কে আর কোনো আগাম অর্থ প্রদান করতে হবে না।
রোববার (১৬ আগস্ট) এই সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, "২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭ কক(৩) ধারা প্রয়োগ করা হবে না।"
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, তীব্র অর্থসংকটের কারণে এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেড খেলাপি হয়ে পড়ে। রূপালী ব্যাংকের গ্রাহক এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির জন্য শতভাগ মার্জিন সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন জানিয়েছিল রূপালী ব্যাংক। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই সংশ্লিষ্ট ধারা থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে অব্যাহতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা সাতটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরবর্তীতে নতুন ঋণ না পাওয়া এবং বিভিন্ন আইনি মামলার কারণে গ্রুপটির অধিকাংশ ব্যবসা সংকটের মুখে পড়ে। তবে বর্তমানে তাদের পরিবহন ও বিদ্যুৎ খাতের ব্যবসাগুলো তুলনামূলকভাবে সক্রিয় রয়েছে।
জানা গেছে, এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের ৭০ শতাংশ মালিকানা এস আলম গ্রুপের। বাকি ৩০ শতাংশ মালিকানা চীনের সেপকো থ্রি এবং এইচটিজি ডেভেলপমেন্ট গ্রুপের হাতে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং বেনামে নেওয়া ঋণের পরিমাণ ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি, যার একটি বড় অংশ বর্তমানে খেলাপি। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, খেলাপি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ব্যাংক থেকে নতুন ঋণ সুবিধা প্রদান বা এলসি খোলার সুযোগ নেই।