সাভারের রানা প্লাজা ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির মামলায় ভবনটির মালিক সোহেল রানাসহ আট আসামির রায় ঘোষণার তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আদালত আগামী ১ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার নতুন দিন ধার্য করেছেন।
আজ রোববার ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীরের আদালতে এই মামলার রায় ঘোষণার কথা ছিল। তবে রায় প্রস্তুত না হওয়ায় তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "আজ মামলাটির রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। রায় প্রস্তুত না হওয়ায় আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।"
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, সাবেক টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম এবং লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আবদুল মোত্তালিব।
আসামিদের মধ্যে মাহবুবুর রহমান ও ফারজানা ইসলাম পলাতক। বাকিরা জামিনে থাকলেও আজ আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। সোহেল রানা এই মামলায় জামিনে থাকলেও রানা প্লাজা ধসে নিহত হওয়ার হত্যা মামলায় বর্তমানে কারাগারে আছেন; আজ তাঁকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। উল্লেখ্য, বিচার চলাকালে সোহেল রানার বাবা আবদুল খালেক ও মা মর্জিনা খাতুন বেগমের মৃত্যু হওয়ায় তাঁদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন রানা প্লাজা ধসে পড়ার ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১ হাজার ১৩৬ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং বহু শ্রমিক আহত হন। ঘটনার পর ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০১৪ সালের ১৫ জুন সাভার থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। ভবনটি সোহেল রানার বাবার নামে থাকায় শুরুতে তাঁকে আসামি করা হয়নি, তবে পরবর্তীতে তদন্তে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় তাঁকে অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি অধিকতর তদন্ত শেষে সোহেল রানা ও তাঁর মা-বাবাসহ ১৮ জনকে আসামি করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। পরে অভিযোগ গঠনের সময় আটজনকে বাদ দিয়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মা-বাবার মৃত্যুর পর তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, “রানা প্লাজা” নামে ছয়তলা একটি শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ২০০৬ সালের ১০ এপ্রিল সাভার পৌরসভা নকশা অনুমোদন করে। পরে ২০০৮ সালের ২২ জানুয়ারি ওই ভবনের ওপর আরও চারতলা নির্মাণের অনুমোদন চাওয়া হয়। শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের কথা বলা হলেও পরে ভবনটিতে পাঁচটি পোশাক কারখানা স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়। নকশা অনুমোদন, অতিরিক্ত তলা নির্মাণ এবং পোশাক কারখানা স্থাপনের অনুমোদনে আসামিদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়।
২০১৭ সালের ২১ মে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জন সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।