দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় খুব একটা নেই। এ মুহূর্তে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। জ্বালানি সংরক্ষণের সক্ষমতা তৈরি এবং দক্ষতা উন্নয়নই একমাত্র উপায়, তবে এগুলো সময়সাপেক্ষ। যেহেতু আমরা এখনই জ্বালানির সরবরাহ বাড়াতে পারছি না, তাই চাহিদা কমিয়ে আনতে হবে।
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করে সরবরাহ করা একটি যান্ত্রিক কার্যক্রম, যেখানে সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। দুর্ঘটনার কারণে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের কার্যক্রম বন্ধ রাখা যাবে—এমন শর্ত চুক্তিতে রয়েছে।
দেশে গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আমাদের বিকল্প উৎস না থাকায়, অন্তত সাত দিনের সরবরাহের সমপরিমাণ এলএনজি মজুতের ব্যবস্থা থাকলে ঝুঁকি কিছুটা কমানো সম্ভব হতো।
আমদানিনির্ভরতা যত কমানো যায়, আমাদের জন্য ততই ভালো। ২০১০ ও ২০১৬ সালের বিদ্যুৎ খাতের মহাপরিকল্পনায় জ্বালানি আমদানিনির্ভরতাকে সর্বোচ্চ প্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, কিন্তু নিজস্ব জ্বালানির বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা বা সরকারি উদ্যোগ ছিল না। ফলে আমাদের আমদানিনির্ভরতা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে।
বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানির ৬৫ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। এভাবে চলতে থাকলে ২০৩০ সালে এটি ৯০ শতাংশে পৌঁছাবে।
গ্যাসের অভাবে শতাধিক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। আমদানি বন্ধ করা সম্ভব নয়, তবে তা কমাতে হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার বাড়াতে হবে এবং নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো প্রয়োজন। নিজস্ব কয়লা উত্তোলনের বিষয়ে পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরে কয়লার অভাব যেন না হয়, কয়লা সরবরাহে ঘাটতি না ঘটে এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন পূর্ণোদ্যমে চলতে পারে—এসব নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
আমরা আপৎকালীন সমস্যা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে ছয় মাসের সমস্যা সামাল দিতে সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়া হলেও দীর্ঘ মেয়াদের কাজগুলো সব সময় পিছিয়ে থাকে।
দীর্ঘ মেয়াদের জন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন, যেখানে জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি, সংরক্ষণ এবং ডিমান্ড সাইড ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
আগামী ছয় মাসে সরকারের করণীয় হচ্ছে ফায়ার ফাইটিং, অর্থাৎ আমাদের যেখানে যা সরবরাহ আছে, সেগুলো সঠিকভাবে আসার ব্যবস্থা করা।
দেশে সৌরবিদ্যুতের প্রসারে কিছু বাধাবিপত্তি রয়েছে। সরকারের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে প্রকল্প করতে গেলে ট্যাক্স-ভ্যাটের সমস্যা দেখা দেয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতা রয়েছে। এগুলো দূর করে যত দ্রুত সম্ভব নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটাতে হবে, তাহলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যাবে।
ম তামিম, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং উপাচার্য, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি)
রাজশাহী থেকে কার্গো ফ্লাইটে মাছ রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে: ভূমিমন্ত্রী
১৬ আগস্ট, ২০২৬ এ ৩:৪২ অপরাহ্ণ