অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের পেসারদের দাপট দেখে গর্বিত সাবেক পেস বোলিং কোচ শন টেইট। নিজের দেশের বিপক্ষে হলেও সাবেক শিষ্যদের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত এই অস্ট্রেলিয়ান। তার মতে, বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এখন বুঝতে হবে যে দলের সবচেয়ে বড় শক্তি পেস বোলিং।

ক্রিকবাজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টেইট বলেন, ‘ওদের নিয়ে আমি খুবই গর্বিত। নিজের দেশের বিপক্ষে ওরা খেলছে, তারপরও এত ভালো করতে দেখে আমি ভীষণ খুশি।’

চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়া সফরে নেই নাহিদ রানা। তারপরও বাংলাদেশের পেস আক্রমণে তার অভাব খুব বেশি অনুভূত হয়নি। বিষয়টিকে দেশের পেস বোলিংয়ের গভীরতার প্রমাণ হিসেবেই দেখছেন টেইট।

তিনি বলেন, ‘দু-একজন চোটে পরলেও তাদের জায়গায় এসে দায়িত্ব নেওয়ার মতো আরও বোলার আছে। আমি সত্যিই বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের সব পেসারই তিন সংস্করণে খেলতে পারে। তারা সবাই বহুমুখী বোলার। আগামী কয়েক বছর বাংলাদেশের পেসাররা আরও ভালো করবে।’

ডারউইন টেস্টের প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ছয় উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদের উন্নতিতে বিশেষভাবে মুগ্ধ টেইট। কনুইয়ের চোট কাটিয়ে হাসানের এমন প্রত্যাবর্তনের পেছনে চিকিৎসক দলের পাশাপাশি কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার অভিজ্ঞতারও ভূমিকা দেখছেন তিনি।

টেইট বলেন, ‘চোট কাটিয়ে সে দারুণভাবে ফিরেছে। চিকিৎসক দলও ভালো কাজ করেছে। কেন্টের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেট খেলাটা তার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেখানে খেলার অভিজ্ঞতা তার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। আমরা জানি সে টেস্ট খেলতে পারে, আবার ইয়র্কারের কারণে টি-টোয়েন্টিতেও কার্যকর।’

হাসানের শান্ত স্বভাবও তার বড় শক্তি বলে মনে করেন সাবেক এই গতিতারকা। টেইটের ভাষায়, ‘সে ভীষণ শান্ত, বিনয়ী ও বুদ্ধিমান। সাধারণত একজন পেসারের মধ্যে যে ধরনের আগ্রাসন দেখা যায়, হাসান তেমন নয়। তবে সে নিজের ক্রিকেট নিয়ে খুব ভালোভাবে চিন্তা করে। অস্ট্রেলিয়ায় এসে এভাবে পারফর্ম করা অসাধারণ ব্যাপার।’

হাসানের সাফল্যের মূল কারণ হিসেবে ধারাবাহিক লাইন ও লেংথের কথা বলেছেন টেইট। তার মতে, বাড়তি গতি না থাকলেও একই জায়গায় দীর্ঘ সময় বল করতে পারার দক্ষতা হাসানকে বিপজ্জনক করে তুলেছে।

তিনি বলেন, ‘এই টেস্টে হাসান কিছুটা বিরক্তিকর ধরনের বোলিং করছে, টেস্ট ক্রিকেটে ঠিক যেটা দরকার। দিনের পর দিন একই ভালো লেংথে বল করাই সেরা বোলারদের বৈশিষ্ট্য। অস্ট্রেলিয়ানদের কয়েকজনের তুলনায়ও হাসানের লাইন ও লেংথ বেশি ধারাবাহিক ছিল। ধারাবাহিক হতে পারলে সাফল্য আসবেই।’

বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পেসারদের আগের তুলনায় ফুলার লেংথে বল করার বিষয়টিও নজর কেড়েছে টেইটের। দায়িত্বে থাকার সময় বোলারদের সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত কাজ করেছিলেন তিনি।

টেইট বলেন, ‘বল সামনে ফেলাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিছুটা বেশি ফুল লেংথে হলেও সমস্যা নেই, অতিরিক্ত শর্ট বলের চেয়ে সেটি ভালো। অস্ট্রেলিয়ার মতো দক্ষিণ আফ্রিকাতেও একই পরিকল্পনা কাজে দেবে। এমনকি বাংলাদেশ, ভারত কিংবা পাকিস্তানের উইকেটেও ফুলার লেংথ একটি ভালো শুরুর জায়গা।’

দেশের মাটিতে পেসারদের সহায়তা করে এমন উইকেট তৈরির ধারাও অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন টেইট। তার মতে, পেসারদের পরিচর্যা এবং সহায়ক উইকেট নিশ্চিত করা গেলে দেশে ও বিদেশে নিয়মিত সাফল্য পাবে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেটকে বুঝতে হবে যে এই মুহূর্তে তাদের শক্তি পেস বোলিং। ঘরের মাঠে পেসারদের জন্য কিছুটা সহায়ক উইকেট তৈরি করে তারা ভালো ফলও পেয়েছে। এই বোলারদের ঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে বিদেশেও একই সাফল্য পাওয়া সম্ভব।’

নাহিদ রানার সঙ্গে নিজের আলোচনার কথাও তুলে ধরেছেন টেইট। ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারা নাহিদকে সবসময় পরিকল্পনা সহজ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

টেইট বলেন, ‘১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করলে অনেক কিছু করার প্রয়োজন নেই। অসংখ্য স্লোয়ার বলও দরকার হয় না। শুধু ধারাবাহিকভাবে সঠিক জায়গায় বল করতে হবে। কোচরা কেবল পথ দেখাতে পারে, আসল কৃতিত্ব খেলোয়াড়দেরই।’

পারিবারিক কারণে বাংলাদেশের দায়িত্ব ছেড়েছিলেন টেইট। ভবিষ্যতে পূর্ণকালীন না হলেও পরামর্শক হিসেবে আবার বাংলাদেশের পেসারদের সঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি তিনি। এমন প্রস্তাব পেলে অবশ্যই বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন সাবেক এই অস্ট্রেলিয়ান পেসার।