জিম্বাবুয়ে সিরিজের বিপর্যয়ের পর ব্যাটিং কোচ আশরাফুলের দেওয়া ব্যাখ্যা নিয়ে শুরু হয়েছিল তীব্র সমালোচনা। প্রস্তুতি ম্যাচ না খেলায় কন্ডিশন বুঝতে পারেনি বাংলাদেশ—এই যুক্তির পর সমালোচকরা ঠাট্টায় মেতে ওঠেন, এমনকি আশরাফুলের চাকরি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। তবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ব্যাটারদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের পর এখন প্রশ্ন উঠছে, আশরাফুল কি তবে তার প্রাপ্য ক্রেডিট পাবেন?
জিম্বাবুয়ে সিরিজে ব্যর্থতার পর আশরাফুল বলেছিলেন, "প্রস্তুতি ম্যাচ না থাকায় কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যায় পড়েছিল বাংলাদেশ।"
তার এই বক্তব্য অনেকেই সহজভাবে নেননি। আন্তর্জাতিক দলের ব্যর্থতার দায় এভাবে প্রস্তুতি ম্যাচের ওপর চাপানো যায় কি না, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। ব্যাটিং কোচ হিসেবে আশরাফুলের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। তবে সেই সময়েই অস্ট্রেলিয়া সফরের উদাহরণ দিয়ে আশরাফুল দাবি করেছিলেন, সেখানে আগেভাগে গিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচ খেললে ব্যাটাররা ভালো করবেন।
অবশ্য অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচে আশরাফুলের কথা খুব একটা কার্যকর মনে হয়নি। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে বাংলাদেশ মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে যায়। তখন প্রশ্ন আরও জোরালো হয় যে, প্র্যাকটিস ম্যাচ পেয়েও যদি ব্যাটাররা ব্যর্থ হন, তবে কন্ডিশন মানিয়ে নেওয়ার যুক্তি কতটা গ্রহণযোগ্য?
কিন্তু মূল পরীক্ষায় এসে পুরো চিত্রটি বদলে দিয়েছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে অজি পেসারদের সামনে দাঁড়িয়ে প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ, যা অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের চেয়ে ২২৮ রান বেশি। তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরি, শান্তর ৮৪ এবং মিরাজের ৬৫ রানের সৌজন্যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজেদের সামর্থ্যের বড় প্রমাণ দিয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটিং ইউনিট।
জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর প্রস্তুতি ম্যাচ ও কন্ডিশন নিয়ে আশরাফুল যে প্রশ্ন তুলেছিলেন, অস্ট্রেলিয়ায় প্রস্তুতি নেওয়ার পর মূল টেস্টে ব্যাটারদের এমন সাফল্য সেই যুক্তির পক্ষে কিছুটা সমর্থন যোগায়। ফলে এখন প্রশ্ন জাগছে, সমালোচনার সময় যারা সামনে ছিলেন, তারা কি এবার আশরাফুলকে যথাযথ স্বীকৃতি দেবেন?