সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন প্রয়াত খালেদা জিয়ার জীবন ও রাজনৈতিক সংগ্রাম বাংলাদেশের ভাগ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে ছিল বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে যোগ দিয়ে তিনি এই কথা বলেন। উল্লেখ্য, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন।

অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল বলেন, "খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে বারবার গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে দেশের সমৃদ্ধির সংগ্রামেও তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন।"

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নীতি এবং দলের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, "বিএনপিকে সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যে দল বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে।"

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতার মতে, খালেদা জিয়া দীর্ঘ সময় সংগ্রাম করেছেন, কোনো বিষয়ে আপস করেননি এবং দলকে আগলে রেখেছেন। তাঁর নেতৃত্ব ও সংগ্রামের ফলেই বিএনপি একটি প্রকৃত রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে।

মির্জা ফখরুল জানান, খালেদা জিয়ার নীতি এবং তাঁর দেওয়া ‘ভিশন ২০৩০’-এর আলোকে দলের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা। আগামী দিনে দলকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার কথা বলেন তিনি।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঞ্চালনায় আয়োজিত এই দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠানে মোনাজাত করেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সদস্যসচিব মাওলানা আবুল হোসেইন। মোনাজাতে খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে বিশেষ দোয়া ও মাগফিরাত এবং প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়।

কেন্দ্রীয় এই কর্মসূচিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ দলের অনেক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলাতেও খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি।

১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। ১৯৬০ সালে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন এবং ১৯৯১ সাল থেকে তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর গৌরব অর্জন করেন। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।