ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জিয়া পরিবারকে বাংলাদেশ থেকে মুছে ফেলতে যারা চেষ্টা করেছিলেন, আজ তারাই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে দাবি করেছেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বেলা ১১টায় খুলনার কেডি ঘোষ রোডে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ওই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

সাবেক সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কথা উল্লেখ করে শফিকুল আলম মনা বলেন, "দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে একটি পরিত্যক্ত ও নির্জন কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়েছিল। সেখানে তার সঙ্গে কথা বলার মতোও কেউ ছিল না। চিকিৎসার অভাবে তাকে তিল তিল করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল বেগম জিয়াকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনার ক্ষমতা চিরস্থায়ী করা। কিন্তু আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমতে আজ দেশের দৃশ্যপট পাল্টেছে। পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।"

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, "তারেক রহমান আজ দেশের মানুষের আশার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। তার দূরদর্শী নেতৃত্বে আগামী দিনে আমরা শোষণহীন ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।"

একই সঙ্গে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে মহানগর বিএনপির সভাপতি বলেন, "১৯৭১ সালের পরাজিত অপশক্তি ও ফ্যাসিস্টদের দোসররা আবারও নতুন করে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার চক্রান্ত করছে। নানা অপকর্মের মধ্য দিয়ে তারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে তাদের সব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।"

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবির পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেহেনা ঈসা, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খাঁন জুলফিকার আলী জুলু, মোল্লা খাইরুল ইসলাম, শেখ তৈয়বুর রহমান, মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসানুর রশিদ চৌধুরী মিরাজ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক সজল, মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন ও দৌলতপুর থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল হক নান্নুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।