চাকরি খোঁজার সময় তরুণদের প্রথম প্রশ্ন ছিল, ‘মাস শেষে বেতন কত?’ এখন সেই প্রশ্নে গতি বদলেছে। নতুন প্রজন্মের চাকরিপ্রার্থীরা জানতে চান, কর্মঘণ্টা কতটা নমনীয়, অফিসে ছুটি কেমন পাওয়া যায় এবং বাড়ি থেকে কাজের সুযোগ আছে কি না। চাকরির পাশাপাশি নিজের জীবনযাপন সত্যিই উপভোগ করা যায় কি না—এটাই এখন তাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
আন্তর্জাতিক গবেষণাতেও এই প্রবণতার ইঙ্গিত মিলছে। বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডেলয়েটের ‘২০২৬ জেন–জি অ্যান্ড মিলেনিয়াল সার্ভে’–এর ফলাফলে দেখা গেছে, তরুণদের কাছে কেবল বড় অঙ্কের বেতনই শেষ কথা নয়; কাজের পরিবেশ, মানসিক স্বস্তি এবং কাজের সঙ্গে ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্যও তাঁদের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে উদীয়মান বেশ কিছু পেশায় তরুণেরা এখন আগ্রহী হচ্ছেন। এর মধ্যে কন্টেন্ট রাইটিং ও সোশ্যাল মিডিয়া পরিচালনায় বেশির ভাগ সময় বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ থাকে; ফলে যাতায়াতে সময় কমে। একই সঙ্গে লেখার মাধ্যমে নিজস্ব সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগও মেলে। অনলাইন টিচিং ও টিউটরিংয়ে নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে কাজের চাপ তুলনামূলকভাবে কম থাকে, ফলে চাকরির পাশাপাশি পড়াশোনা বা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি সহজে চালিয়ে নেওয়া যায়। গ্রাফিকস ডিজাইন ও বেসিক আইটি সাপোর্টের ক্ষেত্রে ছোট ব্যবসা বা টেক ফার্মগুলোতে কাজের সময়সীমা তুলনামূলকভাবে নির্দিষ্ট; প্রথাগত করপোরেট অফিসের তীব্র প্রতিযোগিতা না থাকায় মানসিক চাপও তুলনামূলক কম বলে উল্লেখ করা হয়।
আরও একটি দিক হলো ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও ক্রিয়েটিভ এজেন্সি। শুরুর দিকে এই খাতে বেতন কিছুটা কম হতে পারে, তবে কাজের পরিবেশ প্রাণবন্ত—বিভিন্ন খাতের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির সুযোগ থাকে, যা নতুন ক্যারিয়ার গঠনে সহায়ক হতে পারে। অডিও কনটেন্ট ও পডকাস্ট প্রডিউসারের ক্ষেত্রেও অডিও মিডিয়ার প্রসারের সঙ্গে আধুনিক সাউন্ড টেকনোলজি ব্যবহারের সুযোগের কথা বলা হচ্ছে। কমিউনিটি ও ব্র্যান্ড এনগেজমেন্ট স্পেশালিস্টের কাজ প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের অনলাইন গ্রুপ পরিচালনার সঙ্গে জড়িত; ঘরে বসেই দেশি-বিদেশি ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজ করা যায় এবং আধুনিক টেক-টুলস ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ে। ইকো-সাসটেইনেবিলিটি ও গ্রিন প্রজেক্ট অ্যাসোসিয়েটের ক্ষেত্রে পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে কাজের সম্ভাবনা উল্লেখ করা হচ্ছে—বৈশ্বিক বাজারে দক্ষতার চাহিদা বাড়ছে, এবং নতুন কাজের অভিজ্ঞতা পেতে তরুণেরা এ সুযোগ নিচ্ছেন বলে বর্ণনা করা হয়।
অ-কৃষি খাতে কর্মে মানুষ এক দশকে ২৫ শতাংশ বেড়েছে—এর প্রভাব কর্মসংস্থানের কাঠামোতেও বদল আনছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। অন্যদিকে, সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তি সামনে এসেছে। হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে তিন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, পদ ৫৭৫; সেই ধরনের চাকরিতে শুরুতেই মোটা অঙ্কের অর্থ নাও মিলতে পারে—তবে চাকরির পাশাপাশি বহুমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থাকে বলে বলা হচ্ছে। যানজটের ধকল ও অতিরিক্ত মানসিক চাপ না থাকায় বেঁচে যাওয়া সময় কাজে লাগানোর প্রবণতাও দেখা যায়। কেউ নিয়মিত চর্চা করছেন গান, অভিনয় কিংবা নতুন কোনো বাদ্যযন্ত্র; কেউ আবার সময় দিচ্ছেন এআই প্রম্পটিং ও আধুনিক প্রযুক্তি শেখায়।
শিল্পচর্চা ও প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন তরুণদের চৌকস করে তুলছে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, এই বহুমুখী যোগ্যতা ভবিষ্যৎ পেশাজীবনকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি আজকের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ ভবিষ্যতে কেবল অর্থের চিন্তাই দূর করবে না; বরং প্রাচুর্যকে সৃজনশীল উপায়ে উপভোগ করারও বিস্তৃত পরিসর তৈরি করবে—এমন কথাও উঠে এসেছে।
এদিকে, সহকারী জজ নিয়োগের পদ ২৫০, বেতন স্কেল ৩০,৯৩৫-৬৪,৪৩০ টাকা। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এসএসসি উত্তীর্ণদের দিচ্ছে ২ বছরের বৃত্তি, মাসে ২৫০০ টাকা।