অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজেদের সর্বোচ্চ টেস্ট সংগ্রহের নতুন রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান তামিমের ইতিহাস গড়া শতক, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ ও মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানের ওপর ভর করে প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান তুলেছে সফরকারী দল। এর আগে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ায় বড় ব্যবধানে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। বর্তমানে স্বাগতিকরা ২২৮ রানে পিছিয়ে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টেস্ট সংগ্রহ। ২০০৬ সালে ফতুল্লায় করা ৪২৭ রানের রেকর্ডটি এখনো শীর্ষস্থানে থাকলেও, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন এই দল।

প্রথম দিনের শেষ বিকেলে অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে ব্যাটিং শুরু করে এক উইকেটে ৯৬ রান তোলে বাংলাদেশ। শাদমান ইসলাম ২০ রানে আউট হওয়ার পর তানজিদ ও মুমিনুল হকের ১০২ রানের জুটি দলের শক্ত ভিত গড়ে দেয়। মুমিনুল হক ৯৫ বলে আটটি চার মেরে ৪৯ রানে থামেন।

এরপর অধিনায়ক শান্তর সঙ্গে আরও ৯৩ রান যোগ করেন তানজিদ। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচেই নিজের প্রথম শতকটি তুলে নেন তিনি। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট শতক করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে ইতিহাস গড়েন তানজিদ। নাথান লায়নের বলে আউট হওয়ার আগে ১৯৭ বলে আটটি চার ও একটি ছক্কায় ১০১ রান করেন তিনি।

তানজিদের বিদায়ের পর মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে ৬৬ রান যোগ করেন শান্ত। জশ হ্যাজলউডের বলে স্লিপে স্টিভ স্মিথের হাতে ধরা পড়ার আগে ১২৬ বলে ৮৪ রান করেন অধিনায়ক, যাতে ছিল সাতটি চার ও একটি ছক্কা।

এরপর দ্বিতীয় নতুন বলে সাময়িকভাবে ম্যাচে ফিরে আসে অস্ট্রেলিয়া। ২৯৭ রানে ৩ উইকেট থেকে দ্রুত পতনের ফলে ৬ উইকেটে ৩০৮ রানে নেমে আসে বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিম ৩৬ রান করলেও লিটন দাস ১২ বল খেলে শূন্য রানেই আউট হন।

পরবর্তীতে মেহেদী হাসান মিরাজ বাংলাদেশকে আবারও বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যান। হাসান মাহমুদের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ৪৬ রানের জুটি গড়েন তিনি। ৯২ বলে ১৪ রান করে তৃতীয় দিনের সকালে হ্যাজলউডের বলে এলবিডব্লিউ হন হাসান। এরপর ২৩ বলে ১৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তাইজুল ইসলাম।

অষ্টম উইকেট পতনের পর তাসকিন আহমেদের সঙ্গে আরও ৪৬ রান যোগ করেন মিরাজ। ১৫৪ বলে পাঁচটি চার ও একটি ছক্কায় ৬৫ রান করে হ্যাজলউডের বলে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন তিনি। এই উইকেটটি নিয়েই টেস্ট ক্যারিয়ারে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন অস্ট্রেলিয়ান পেসার হ্যাজলউড।

শেষ উইকেটে তাসকিন ও এবাদত হোসেন আরও আট রান যোগ করেন। লায়নকে ছক্কা মারলেও হ্যাজলউডের বলে ৭ রানে আউট হন এবাদত। শেষ পর্যন্ত ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন তাসকিন।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার হিসেবে ৮৯ রানে ৬ উইকেট নেন হ্যাজলউড। মিচেল স্টার্ক পান দুটি উইকেট এবং অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ও লায়ন পান একটি করে উইকেট। বাংলাদেশের ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ফিল্ডাররা বেশ কিছু সুযোগ হাতছাড়া করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে হাসান মাহমুদের ক্যারিয়ারসেরা ৬ উইকেটের দাপটে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ফলে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরুর আগেই বড় ঘাটতিতে পড়েছে স্বাগতিকরা।