লিওনেল মেসির আগমনের পর যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) আকর্ষণ যে বহুগুণ বেড়েছে, তা এখন স্পষ্ট। এবারের দলবদলে এক-দুজন নয়, বরং ইউরোপের ফুটবল অঙ্গন কাঁপানো তারকাদের এক বিশাল মিছিল নেমেছে এই লিগে। মৌসুমের দ্বিতীয় দলবদলের জানালা বন্ধ হতে এখনো তিন সপ্তাহ বাকি থাকলেও এরই মধ্যে এমএলএসে পা রেখেছেন আঁতোয়ান গ্রিজমান, রবার্ট লেভানডফস্কি, আলেক্সিস সানচেজ ও কাসেমিরোর মতো বিশ্বখ্যাত ফুটবলাররা।

বিশ্বকাপজয়ী, ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু জয়ী, কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন এবং একাধিকবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী খেলোয়াড়দের উপস্থিতিতে এবারের গ্রীষ্মকালীন দলবদল এমএলএসের জন্য হয়ে উঠেছে ব্যতিক্রমী।

গত ১৩ জুলাই অরল্যান্ডো সিটিতে যোগ দিয়েছেন ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ড আঁতোয়ান গ্রিজমান। ২০১৬ ও ২০১৮ সালে ব্যালন ডি’অরে তৃতীয় স্থান অধিকার করা এই তারকা অভিষেকেই নিজের জাত চিনিয়েছেন। সান হোসে আর্থকোয়েকসের বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয়ে গোল করেন তিনি, যা ছিল ক্লাব ফুটবলে তাঁর ক্যারিয়ারের ৩০০তম গোল।

গ্রিজমানের কিছু আগে এমএলএসে নাম লেখান পোলিশ স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানডফস্কি। জুনের শেষ দিকে ৩৭ বছর বয়সী এই গোলমেশিন শিকাগো ফায়ারে যোগ দেন। বার্সেলোনা ছেড়ে আসা লেভানডফস্কি শিকাগোর হয়ে তৃতীয় ম্যাচেই শার্লটের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে দুটি গোল করেন। ইউরোপে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি প্রায় প্রতি মৌসুমে ২০ থেকে ৩০টির বেশি গোল করার রেকর্ড ধরে রেখেছেন। ২০১৯-২০ মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের ঐতিহাসিক ছয় ট্রফি জয়ের পথে তিনি করেছিলেন ৫৫ গোল। করোনা মহামারির কারণে সেবার ব্যালন ডি’অর স্থগিত না হলে তিনি ছিলেন সবচেয়ে বড় দাবিদার। বার্সেলোনায় নিজের শেষের আগের মৌসুমে ৪২ এবং গত মৌসুমে ১৯ গোল করেছেন তিনি।

অন্যদিকে, গোল করা ও করানো—উভয় ক্ষেত্রেই দক্ষ চিলির তারকা আলেক্সিস সানচেজ দুই বছরের চুক্তিতে মন্ট্রিয়লে যোগ দিয়েছেন। তিনি এর আগে বার্সেলোনা, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ইন্টার মিলানের মতো ক্লাবে খেলেছেন। তবে এবারের দলবদলের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে কাসেমিরোকে। রিয়াল মাদ্রিদে ৯ বছর খেলে ক্লাব ফুটবলের প্রায় সব বড় শিরোপা জয়ী এই ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার এখন লিওনেল মেসির সতীর্থ ইন্টার মায়ামিতে। চলতি বিশ্বকাপেও ব্রাজিলের হয়ে জাপানের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে গোল করেছেন তিনি। ২০১১ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর ব্রাজিলের হয়ে ৯১ ম্যাচ খেলেছেন কাসেমিরো। আগামী মৌসুমের শেষ পর্যন্ত তাঁর চুক্তি থাকলেও মায়ামির মাঝমাঠে তাঁর প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সিতে যোগ দিয়েছেন মেসির বার্সেলোনা-সতীর্থ সার্জি রবার্তো এবং কলম্বাস ক্রুর নতুন সদস্য হয়েছেন সাবেক ভিয়ারিয়াল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ডিফেন্ডার এরিক বেইলি।

মর্যাদার বিচারে এটি এমএলএসের ইতিহাসের সেরা দলবদলের মৌসুম কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত বছরও বায়ার্ন মিউনিখের কিংবদন্তি টমাস মুলার ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসে এবং রেকর্ড ২ কোটি ৬৫ লাখ ডলারে টটেনহাম ছেড়ে সন হিউং-মিন লস অ্যাঞ্জেলেস এফসিতে যোগ দিয়েছিলেন। এ বছরের শুরুতে মিনেসোটা ইউনাইটেডে নাম লেখান হামেস রদ্রিগেজ।

এমএলএসে তারকার আগমন নতুন কিছু নয়। ২০১৫ সালেও আন্দ্রে পিরলো, ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড, স্টিভেন জেরার্ড, কাকা ও দিদিয়ের দ্রগবার মতো তারকারা এখানে এসেছিলেন। তবে ২০২৩ সালে মেসির আগমনে এই লিগের চেহারা পুরোপুরি বদলে যায়। তাঁর সঙ্গে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন সার্জিও বুসকেতস ও জর্দি আলবা, যাদের হাত ধরে ক্লাবটি ইতিহাসের প্রথম শিরোপা জয় করে।

আগামী ২ সেপ্টেম্বর দলবদলের জানালা বন্ধ হবে। তার আগে গ্রিজমান, লেভানডফস্কি, সানচেজ ও কাসেমিরোর তালিকায় আরও কোনো ইউরোপজয়ী তারকার নাম যুক্ত হয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।