অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ডারউইন টেস্টের প্রথম দুই দিনে হাসান মাহমুদ ও তানজিদ হাসান তামিমের ব্যক্তিগত সাফল্য নজর কেড়েছে সবার। তবে এই দুই নায়কের পারফরম্যান্সের পেছনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর কৌশলী নেতৃত্ব ও পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

টেস্টের প্রথম দিনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে হাসান মাহমুদের ৬ উইকেট ছিল প্রধান অস্ত্র। তবে এই অস্ত্রটিকে সঠিক সময়ে ও সঠিক জায়গায় ব্যবহার করার কৃতিত্ব অধিনায়ক শান্তর। অফসাইডে চাপ তৈরি, স্লিপে ক্যাচিং পজিশন ধরে রাখা এবং পেসারদের দিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় আঘাত হানার মাধ্যমে শুরু থেকেই স্বাগতিকদের চাপে রেখেছিল বাংলাদেশ। এছাড়া লাবুশেনের গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচটি দ্বিতীয় স্লিপে শান্তর হাতেই আসে।

দ্বিতীয় দিনে ইতিহাস গড়েছেন তানজিদ হাসান তামিম। ১৯৭ বলে ১০১ রানের ইনিংস খেলে তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সেঞ্চুরির মালিক হয়েছেন। তবে তানজিদের পাশাপাশি ব্যাট হাতে সমান দাপট দেখিয়েছেন অধিনায়ক শান্ত। ১২৬ বলে ৮৪ রানের একটি ইনিংস খেলেন তিনি, যাতে ছিল সাতটি চার ও একটি ছক্কা। তানজিদের সঙ্গে তার জুটিতে এসেছে ৯৩ রান এবং মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে আরও ৬৬ রান যোগ হয়। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক মানসিকতা বজায় রেখে প্রায় ৬৭ স্ট্রাইক রেটে রান সংগ্রহ করেছেন শান্ত।

দুই দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩৫১ রানে ৬ উইকেট, যেখানে লিড ১৫৩ রান। হাসান মাহমুদের ছয় উইকেট এবং তানজিদের সেঞ্চুরি দলের জন্য বড় প্রাপ্তি হলেও, মাঠের পরিকল্পনা, বোলারদের সঠিক ব্যবহার, ফিল্ড সেটিং এবং ব্যাট হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়ায় ছাপ রেখেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।

হাসান ও তানজিদ হয়তো এই দুই দিনের বড় নায়ক, কিন্তু ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলার সামগ্রিক পরিকল্পনার পেছনে শান্তর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। অধিনায়ক হিসেবে নিজের দিকে আলো না টেনে পুরো দলকে সামনে নিয়ে আসাই তার এই সাফল্যের মূল দিক বলে মনে করা হচ্ছে।