লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘ ২৬ বছরের আইনি লড়াইয়ের পর আদালতের মাধ্যমে নিজের পৈতৃক জমির দখল ফিরে পেয়েছেন মিজানুর রহমান নামের এক যুবক। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে থানা-পুলিশের উপস্থিতিতে স্থানীয় গ্রামবাসী জমি পরিমাপ করে তাঁর হাতে জমির দখল বুঝিয়ে দেন।

মিজানুর রহমান কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের মৃত শাহজাহান আলীর ছেলে। মামলার বিবরণ ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, মিজানুরের বয়স যখন মাত্র তিন বছর, তখন তাঁর বাবা শাহজাহান আলী মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর মা নয়নী বেগমের সঙ্গে পৈতৃক ভিটায় বসবাস করছিলেন তিনি। তবে এতিম শিশু মিজানুরের বাবার রেখে যাওয়া ৫৬ শতাংশ জমির ওপর চোখ পড়ে তাঁর কাকা শহিদুল ইসলামের। পরবর্তীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অভিভাবক সেজে ওই ৫৬ শতাংশ জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন শহিদুল ইসলাম। তবে এতিম শিশুর জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আদালতের যে আইনি অনুমতির প্রয়োজন ছিল, তা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

জমি লিখে নেওয়ার পর কাকা শহিদুল ইসলাম মিজানুরের দায়িত্ব নেননি এবং তাঁর মা নয়নী বেগমকেও বিয়ে করেননি। প্রতারণার শিকার হয়ে পরবর্তীতে নয়নী বেগম শিশু মিজানুরকে দাদির কাছে রেখে অন্যত্র বিয়ে করে চলে যান। এরপর থেকে দাদির কাছেই লালিত-পালিত হন মিজানুর। বিধবা দাদি চরম কষ্টে নাতিকে পড়াশোনা করান এবং মিজানুর ইতোমধ্যে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। দাদির পরামর্শে বাবার জমি ফিরে পেতে আদালতে মামলা দায়ের করেন তিনি। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে গত ১০ আগস্ট আদালত মিজানুরের পক্ষে রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের এই রায়ে পুরো গ্রামে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়। গ্রামবাসীর পূর্ণ সমর্থনে শুক্রবার থানা-পুলিশের সহায়তায় ওই জমি পরিমাপ করে মিজানুরকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে মিজানুর রহমান বলেন, "দীর্ঘ ২৬ বছর আইনি লড়াই শেষে পৈতৃক জমি ফিরে পেয়েছি। আদালত ন্যাচার বিচার করেছেন। দাদির পরামর্শ ও সহযোগিতায় আমি আমার সম্পদ ফিরে পেয়েছি। এখন বাবার জমি চাষাবাদ করেই আমার সংসার চলবে।"

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক বলেন, "আদালতের নির্দেশে এবং গ্রামবাসীর আহ্বানে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে গ্রামবাসী আদালতের রায় বাস্তবায়ন করেছেন। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দীর্ঘ ২৬ বছরের বিবাদের একটি সুন্দর সমাধান হলো।"