ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের কবিরপুর চরে পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

নদীর তীব্র ভাঙনের মুখে কবিরপুর চরের প্রায় ১৩০ মিটার তীর এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ওই এলাকার বসতবাড়ি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

জিওব্যাগ ডাম্পিং শুরুর আগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। পরিদর্শনকালে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

পরবর্তীতে নদীতীরে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি বলেন, "পদ্মার ভাঙন রোধে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে নদীভাঙন বন্ধে টেকসই বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।"

তিনি আরও বলেন, "নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার থাকবে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে।"

নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুস্তাকুজ্জামান মুস্তাক জানান, প্রায় দুই দশক ধরে ইউসুফ মাতব্বরের ডাঙ্গি, শুকুর আলী মিঞার ডাঙ্গি, উস্তাদ ডাঙ্গি ও কবিরপুর চরসহ আশপাশের প্রায় ২০টি গ্রাম পদ্মার ভাঙনের শিকার হচ্ছে। স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য দীর্ঘদিন ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হলেও অতীতে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যায়নি। এবার দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এটাই স্থানীয়দের প্রধান প্রত্যাশা।

অনুষ্ঠানে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সাজু সিকদার, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রেজাউল ইসলাম, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান চৌধুরী রঞ্জনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

জিওব্যাগ ডাম্পিং শুরু হওয়ায় সাময়িকভাবে ভাঙনের তীব্রতা কমবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। তবে নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জনপদকে দীর্ঘমেয়াদে রক্ষা করতে তারা দ্রুত স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।