জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে এক গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে শহীদ ফারুক সড়কে এই কর্মসূচি পালিত হয়। সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার আহ্বায়ক ইসহাক সরকার অভিযোগ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশ চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।

নেতাকর্মীদের ওপর চলমান চাপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "ঘরে ঘরে নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম করা হচ্ছে। এমনকি রাজনৈতিক প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর রুদ্ধ করতে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর মতো নেতাদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। কিসের জন্য এই হামলা? কারণ তারা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কথা বলেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন।"

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জনগণের রাজনৈতিক সচেতনতার বিষয়ে ইসহাক সরকার বলেন, "জনগণকে ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখার দিন শেষ। আজকে ঘরে ঘরে সচেতনতা ও প্রতিবাদের আগুন তৈরি হয়ে গিয়েছে। ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না। অতীতে যেমন জনগণ স্বৈরাচার মেনে নেয়নি, ভবিষ্যতেও নেবে না।"

গণ-অভ্যুত্থান ও জনগণের শক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, "আমরা স্বৈরাচার ও চরম শাসন দেখেছি। কিন্তু বিদেশি প্রভুদের রক্ষীপতি শাসন বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ কখনো মেনে নেয়নি এবং নেবেও না। এই দেশের আপামর জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েই শেখ হাসিনার মতো ফ্যাসিবাদকে বাংলা থেকে উৎখাত করেছে এবং তাকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে।"

সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জ্বালানি সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার চরম বিপর্যয়ের কথা উল্লেখ করেন। তাদের দাবি, একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজ চক্রের দৌরাত্ম্যের কারণে বাজারে পণ্যের দাম বাড়ছে, কিন্তু তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

গণসমাবেশ থেকে অবিলম্বে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনা, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও হামলা-মামলা বন্ধ করা এবং চাঁদাবাজ চক্রকে আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানানো হয়। উক্ত সমাবেশে এনসিপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও বিভিন্ন থানার নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।