ঢাকার ধামরাইয়ে মাদক কেনার টাকা না দেওয়ার কারণে প্রতিবেশী এক নারী ও এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে শাকিল হোসেন নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রাতেই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শাকিল হোসেনকে আটক করেছে ধামরাই থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার সোমবাগ ইউনিয়নের চাপিল বাউজাপাড়া গ্রামের আবদুর রশিদের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

আহত ইব্রাহিম হোসেনের ভাই মো. হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে ধামরাই থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আটক শাকিল হোসেন সোমবাগ ইউনিয়নের চাপিল বাউজাপাড়া গ্রামের মো. শাহজাহান ওরফে বেবলের ছেলে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন—একই গ্রামের মো. ওয়াজেদ আলীর ছেলে শাহজাহান ওরফে বেবল, মো. ওয়াজেদ আলী এবং শাহজাহানের স্ত্রী আসমা খাতুন ওরফে সখিনা।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন—চাপিল বাউজাপাড়া গ্রামের আবদুর রশিদের স্ত্রী পারভীন আক্তার (৪৫) ও একই এলাকার ইলেকট্রিশিয়ান মো. ইব্রাহিম হোসেন (৩০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে শাকিল হোসেন আবদুর রশিদের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রী পারভীন আক্তারের কাছে মাদক কেনার টাকা দাবি করেন। পারভীন টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শাকিল তাকে মারধর করেন এবং হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে পেটে একাধিক আঘাত করেন। এতে পারভীন গুরুতর জখম হন। পারভীনের চিৎকার শুনে ইলেকট্রিশিয়ান ইব্রাহিম হোসেন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে শাকিলকে আটকানোর চেষ্টা করলে তাকেও ধারালো চাকু দিয়ে পেটে আঘাত করা হয়। এতে ইব্রাহিমও গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান। বর্তমানে ইব্রাহিম হোসেন সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পারভীন আক্তার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, "মাদকাসক্ত শাকিল হোসেন দুজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে রাতে অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত শাকিল হোসেনকে আটক করা হয়।"

তিনি আরও জানান, আহত ইব্রাহিম হোসেনের ভাই হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে শাকিলসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। শুক্রবার সকালে শাকিল হোসেনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।