পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্যকে সালিশ বৈঠকের সময় মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১২ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ঘেরাখালী মোল্লা স্ট্যান্ড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী শাহজাহান মোল্লা জানান, এলাকায় একটি জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি মীমাংসার জন্য সালিশের দিন নির্ধারিত ছিল। এর আগে এক পক্ষ সেখানে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। বিষয়টি জানার পর ইউপি সদস্য তানিয়া বেগম ঘটনাস্থলে আসেন। সেখানে পৌঁছানোর পর তার সঙ্গে হামলার ঘটনা ঘটে। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ইউপি সদস্য সালিশ করতে ঘটনাস্থলে গেলে তাকে সেখানে আসার কারণ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। এরপর কয়েকজন তার ওপর হামলা চালায়। অভিযুক্তদের কয়েকজন একটি হত্যা মামলার আসামি এবং ওই মামলায় তানিয়া বেগম সাক্ষী। এ কারণে পূর্ববিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে তাদের ধারণা।

আহত ইউপি সদস্য তানিয়া বেগম জানান, সালিশে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি পুলিশকে ফোনে জানিয়েছিলেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর খবির, লিটন গাজী, রিপন, রত্তন, আলমগীর, লিমন ও লতিফ সিকদারসহ কয়েকজন তার ওপর হামলা করেন। এতে তার মাথা ও হাতে আঘাত লাগে এবং একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে যান। তিনি বলেন, সালিশের বিষয়ে আগে থেকে পুলিশকে জানিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে দেখি সালিশের সিদ্ধান্ত না মেনে ঘর নির্মাণের চেষ্টা চলছে। আমি বিষয়টি দেখতে গেলে কয়েকজন আমার ওপর হামলা করেন।

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত লিটন গাজী। তিনি বলেন, তানিয়া মেম্বারকে কেউ মারধর করেনি। তিনি নিজে রাস্তায় গিয়ে শুয়ে পড়েছেন। তিনি যখন সালিশ করতে এসেছেন, তখন আমরা তাকে কেন মারতে যাব।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।