অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষা শেষ করে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট শতক হাঁকালেন তানজিদ হাসান তামিম। স্বাগতিকদের বিধ্বংসী বোলিং আক্রমণ সামলে এই বাঁহাতি ওপেনারই হয়ে উঠলেন অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট ক্রিকেটে তিন অঙ্কের রান করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার।
দ্বিতীয় দিনের ৬৪তম ওভারে নাথান লায়নেরের বলে নিজের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ২৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। ১৮৮ বলে করা তার এই শতকে ছিল ৮টি চার ও ১টি ছক্কা। নিজের মাত্র দ্বিতীয় টেস্টেই এই স্মরণীয় মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি।
তানজিদ যখন শতক পূর্ণ করেন, তখন ৬৪ ওভারে ২ উইকেটে ২৩০ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রান ছাড়িয়ে সফরকারীদের লিড তখন ছিল ৩২ রানের।
প্রথম দিনের শেষেই বড় ইনিংসের ভিত্তি গড়ে রেখেছিলেন তানজিদ। অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ১ উইকেটে ৯৬ রান নিয়ে দিন শেষ করে বাংলাদেশ, যেখানে তিনি ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন। দ্বিতীয় দিনের শুরু থেকে মুমিনুল হকের সঙ্গে ধৈর্য ও নিয়ন্ত্রণের পরীক্ষায় সফল হন তিনি।
দ্বিতীয় উইকেটে মুমিনুলের সঙ্গে ১০২ রানের জুটি গড়েন তানজিদ। জশ হ্যাজলউডের বলে ৪৯ রানে মুমিনুল আউট হলেও এক প্রান্ত আগলে রাখেন এই তরুণ ওপেনার। প্রথম ফিফটি করার পর ধীরে ধীরে শটের পরিধি বাড়াতে থাকেন তিনি।
৬৩ রানে থাকাকালীন অ্যালেক্স ক্যারি ও স্টিভেন স্মিথের মাঝখানে একটি কঠিন সুযোগ থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন তানজিদ। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি তার। প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও হ্যাজলউডের গতি সামলানোর পাশাপাশি নাথান লায়নেরের স্পিনের বিপক্ষেও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তিনি। ভালো বলের সম্মান দিয়ে সুযোগ পেলেই রান সংগ্রহ করেছেন এই ব্যাটার।
এই শতকের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত টেস্ট ইনিংসের রেকর্ডটিও নিজের করে নিলেন তানজিদ। এর আগে ২০০৩ সালের কেয়ার্নস টেস্টে হান্নান সরকারের করা ৭৬ রানের রেকর্ড ছিল সর্বোচ্চ।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে শতক পাওয়া দ্বিতীয় বাংলাদেশি হলেন তানজিদ। এর আগে ২০০৬ সালে ফতুল্লায় ১৩৮ রান করেছিলেন শাহরিয়ার নাফীস। তবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান হওয়ার অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করলেন তানজিদ হাসান তামিম।