বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিঞা গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, জনগণের হক মেরে খাওয়ার উদ্দেশ্যেই বিরোধী দলগুলোকে উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তার দাবি, সরকারের দৃষ্টিতে জামায়াতকে ভোট দেওয়া মানুষ এ দেশের নাগরিক নন এবং তাদের কোনো অধিকারও নেই। কেবল সরকারি দলের ভোটাররাই সব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার যোগ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৫টায় নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

মিঞা গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, সরকারি দলের এমপিদের এলাকায় একের পর এক প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করা হলেও জামায়াতসহ বিরোধী জোটের এমপিদের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য করা হচ্ছে। তিনি বলেন, "তাদের প্রাপ্য সাধারণ বরাদ্দ কাটছাঁট করে নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিশেষ বরাদ্দের নামে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে লুটেপুটে খাওয়ার নেশায় মেতে উঠেছেন তারা।"

সরকারি দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে অনিয়মতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "অনিয়মতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক প্রতিযোগিতা চলছে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের মাঝে। যে কারণে ক্ষমতাসীনদের ভেতরেই চরম অন্তর্কোন্দল দেখা দিয়েছে, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি সংঘাতের ঘটনায়।"

বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এই দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে উঠেছে বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে, কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, অর্থ গ্রহণ, দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির নগ্ন রূপ দেখা যাচ্ছে।

সাংবিধানিক গুরুত্বপূর্ণ পদ এবং জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার শীর্ষ পদগুলোতে দলীয় লোক নিয়োগের মাধ্যমে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ আনেন তিনি। এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণে বাধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমরা এর প্রতিবাদ নির্বাচন কমিশনে জানিয়েছি। একই সঙ্গে স্থানীয় নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত দলীয় লোকদের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি করেছি।"

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, "সংসদ সদস্যদের যদি স্বাধীনভাবে ও গোপনে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো, তবে ১১ দল মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতেন।" তবে সংবিধানের অনুচ্ছেদ দলীয় প্রার্থীকে ভোট দিতে বাধ্য করায় এই নিয়ম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি সংবিধান সংস্কারের দাবি জানান। তার অভিযোগ, সরকার গণভোটের রায় মানছে না বলে সংস্কার বাস্তবায়ন করছে না।

সাবেক এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, সরকার মূলত জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ঐক্যমত কমিশনে সম্মত হয়েও তারা এখন সংস্কার কমিশন অস্বীকার করছে। তিনি বলেন, "অর্থাৎ যেটিতে তাদের সুবিধা হবে, সেটি মানবে। আর যা করলে দেশ ও জনগণের কল্যাণ হবে, তা করবে না।"

এমন দ্বিচারিতার কারণে আগামীতে তাদের ভরাডুবি হবে এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনেই এর প্রতিফলন ঘটবে বলে তিনি মন্তব্য করেন, যদিও নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।

এর আগে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে সৈয়দপুরে পৌঁছান মিঞা গোলাম পরওয়ার। সৈয়দপুর শহরের আল ফারুক একাডেমিতে অনুষ্ঠিত রংপুরের বিভাগীয় আঞ্চলিক কর্মপরিষদ সদস্যদের দুদিনব্যাপী কর্মশালা উদ্বোধন করতে তিনি সেখানে যান।

এ সময় তার সঙ্গে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম, রংপুর অঞ্চল সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মমতাজ উদ্দিন, অন্যতম অঞ্চল টিম সদস্য আবদুল হাকিম, নীলফামারী জেলা আমির ও নীলফামারী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুস সাত্তার, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম এবং নীলফামারী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আবদুল মুনতাকিম উপস্থিত ছিলেন।