জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের তরমুজ নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হওয়া বিতর্ক থামার নামগন্ধ নেই। টোকিওতে বিষয়টি খুব একটা গুরুত্ব না পেলেও ক্যানবেরায় অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজের জন্য এটি বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি কৌতুক পডকাস্টে করা বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়লেও জাপানি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাইতে সাফ মানা করে দিয়েছেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার অস্ট্রেলীয় পার্লামেন্টের প্রশ্নোত্তরে বিরোধী দল লিবারেল পার্টির সংসদ সদস্য মেরি অলড্রেড প্রধানমন্ত্রীর এই আচরণকে ‘অমার্জিত ও সম্মানহানিকর’ আখ্যা দিয়ে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। জবাবে আলবানিজ সরাসরি সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের মধ্যকার সম্পর্ক কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী।’
ঘটনার সূত্রপাত গত জুলাইয়ে। ‘বুশ ডিপ’ নামের একটি কৌতুক পডকাস্টে অংশ নিয়ে আলবানিজ জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দেওয়া দুটি বিখ্যাত ‘ক্রাউন মেলন’ (বিশেষ জাতের তরমুজ) উপহারের প্রসঙ্গ তোলেন। কথা বলার সময় তাঁর হাতের ভঙ্গি এবং কথা বলার ধরনকে নারীদের প্রতি ইঙ্গিতপূর্ণ ও অবমাননাকর বলে দাবি করছেন সমালোচকেরা।
অস্ট্রেলিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর ও উপনেতা জেন হিউম এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই ঘটনাকে ‘নোংরা ও অনুপযুক্ত’ মন্তব্য করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন। পাশাপাশি ক্যানবেরায় নিযুক্ত সাবেক জাপানি রাষ্ট্রদূত শিংগো ইয়ামাগামি স্থানীয় পত্রিকায় লিখেছেন, এটি দুই দেশের মধ্যকার সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে ক্ষুণ্ন করেছে।
তবে জাপান সরকারের পাঠানো একটি কূটনৈতিক বার্তায় জানানো হয়েছে, অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যমে এই বিষয়ে অতিমাত্রায় আলোচনা হলেও আলবানিজের কোনো মন্দ উদ্দেশ্য তাঁরা দেখছেন না। ক্যানবেরার সরকারি মন্ত্রীরাও প্রধানমন্ত্রীর সমর্থনে এগিয়ে এসে জানিয়েছেন, সামান্য একটি কৌতুক নিয়ে রাজনীতি করা ভিত্তিহীন। তা সত্ত্বেও বিরোধীদের ক্রমাগত চাপে অস্ট্রেলিয়া সরকারের রাজনৈতিক অস্বস্তি ক্রমশ বাড়ছে।