চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর বাজারে স্বর্ণব্যবসায়ী ওমর সরকারকে (৪৫) গলা কেটে হত্যার দায়ে জয় বিশ্বাস অনিককে (২১) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হবে। এছাড়া অপর ধারায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
একই মামলায় অপর আসামি হৃদয় সূত্রধরের (২১) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক মো. কামাল হোসাইন এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জয় বিশ্বাস মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার সুভারিয়া সরকার বাড়ির অর্জুন বিশ্বাসের ছেলে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হৃদয় সূত্রধর মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর সারপাড় এলাকার গোপাল সূত্রধরের ছেলে। আর নিহত ব্যবসায়ী ওমর সরকার মতলব দক্ষিণ উপজেলার সারপাড় এলাকার শ্রী রবি ভক্তের ছেলে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ২টার মধ্যে যেকোনো সময় ওমর সরকার তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘মাধবী শিল্পালয়’ থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুই আসামির যোগসাজশে গলা কেটে নিহত হন। ঘটনাটি গোপন করতে আসামি জয় বিশ্বাস অনিক নিজেই নিহত ওমর সরকারের বাবার কাছে গিয়ে জানান যে, কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে। এই সংবাদের পর রবি ভক্ত ও তার বড় ছেলে জীবন কৃষ্ণ বাড়ি থেকে প্রায় ৮০ গজ দূরে দাস বাড়ির উঠানে ওমর সরকারের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি নিহত ওমর সরকারের বাবা রবি ভক্ত অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশি তদন্তের পর ২৩ ফেব্রুয়ারি হৃদয় ও ২৪ ফেব্রুয়ারি জয় বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে মতলব দক্ষিণ থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হাবিবুর রহমান ২০২২ সালের ১০ মে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) সালমা বেগম জানান, মামলার বিচার চলাকালীন আদালত ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্যপ্রমাণ, নথিপত্র পর্যালোচনা এবং আসামিদের অপরাধ স্বীকারের প্রেক্ষিতে বিচারক এই রায় দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জয় বিশ্বাস আদালতে উপস্থিত থাকলেও অপর আসামি হৃদয় জামিনে গিয়ে পলাতক রয়েছেন।
মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।