ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের চরশালেপুর এলাকায় সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু দীর্ঘ ৯ বছর পার হয়ে গেলেও সাধারণ মানুষের কাজে আসেনি। ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুর দুই পাশে কোনো সংযোগ সড়ক না থাকায় এতে যানবাহন বা মানুষের ওঠানামার সুযোগ নেই। ফলে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও স্থানীয়রা এই অবকাঠামোর সুফল পাননি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সংযোগ সড়ক না থাকায় যানবাহন চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী, বয়স্ক ও কর্মজীবী মানুষকে চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাদা ও পানির কারণে এই ভোগান্তি আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয় করে সেতু নির্মাণ করা হলেও সংযোগ সড়কের অভাবে এর উপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের এই সেতুটি নির্মাণে ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছিল।
এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, "সেতু থাকা সত্ত্বেও আমাদের পানি ভেঙে চলাচল করতে হয়। ৯ বছর আগে সেতুটি করা হলেও সংযোগ সড়কের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।"
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে চরহরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর কবির জানান, "ব্রিজটি নির্মাণ হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আশা-আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় মানুষ এর সুফল পাচ্ছে না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার জানানো হয়েছে। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া দরকার।"
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ব্রিজের দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় মূল্যবান এই সরকারি অবকাঠামোটি কেবল একটি দৃশ্যমান স্থাপনা হয়েই থাকবে এবং জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবের উদ্দেশ্য অপূর্ণ থেকে যাবে।
চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, "সেতুটির বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে জানতে পেরেছি। এর দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক নেই। আমরা বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সরেজমিনে এটি পরিদর্শন করব।"
তিনি আরও বলেন, "চরাঞ্চলের মানুষের সেবায় আমরা সব সময় তৎপর। কীভাবে তাদের চলাচলের ব্যবস্থা সুগম করা যায়, সে লক্ষ্যে কাজ চলছে।"