সংসদীয় গণতন্ত্রের সুষ্ঠু ধারা ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে ১১ দলীয় জোট। জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আজাদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জোট মনোনীত প্রার্থী বীর বিক্রম কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়া হয়। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হামিদুর রহমান আজাদ এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, "বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে সবসময় দেখা গেছে সরকারি দল থেকে একক প্রার্থী দিয়েই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হয়, যেখানে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে না। কেবল ১৯৯১ সালে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল। আমরা জয়-পরাজয়ের হিসাব না করে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য রক্ষা ও একটি সুস্থ ধারা তৈরির লক্ষ্যে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
প্রার্থী হিসেবে কর্নেল অলি আহমদের যোগ্যতার কথা তুলে ধরে জোট সমন্বয়ক জানান, তারা এমন একজন ব্যক্তিত্বকে বেছে নিয়েছেন যিনি খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক তিনবারের মন্ত্রী, ছয়বারের এমপি এবং উচ্চশিক্ষিত পিএইচডি ধারক। জাতীয় রাজনীতি, দেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান সর্বজনবিদিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ ও গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে ১১ দলীয় জোটের এই নেতা বলেন, "অনাস্থা প্রস্তাব ও অর্থবিল ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা নিয়ে সবাই একমত হলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। এই সংস্কারটুকু যদি কার্যকর হতো, তবে কর্নেল অলি আহমদ বিপুল ভোটে বিজয়ী হতেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।"
পাশাপাশি, নির্বাহী জায়গা কিংবা সচিবালয়কে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ ফোরামের বৈঠকের জন্য ব্যবহার করার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। রাজনৈতিক দলগুলোকে দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানান হামিদুর রহমান আজাদ।