লাল বলের স্বপ্ন দেখেন—এমন ক্রিকেটার বাংলাদেশে খুব বেশি নন। পেসারদের সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম। তবে হাসান মাহমুদকে সেই দলে ধরতে কোনো সংশয় থাকে না। স্বপ্নের কথা বললে সম্পূর্ণটা বোঝানো হয় না, কারণ স্বপ্ন পূরণও করতে হয়।

ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশি পেসার ন্যূনতম ৫ উইকেট নেন। প্রথম দিনের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের বোলার হাসান করেন ৬ উইকেট—৫৫ রানে, যা তাঁর ক্যারিয়ার সেরা বোলিং।

অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আগে হাসান বলেছিলেন, অস্ট্রেলিয়ায় অন্তত দুবার ৫ উইকেট পেতে চান। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে তিনি সেই কল্পনাকেই বাস্তবে অনুবাদ করেন। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে প্রথম ইনিংসেই পান ৬ উইকেট।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের বোলারদের টেস্ট-সাফল্যের ইতিহাসেও এটি নতুন মাইলফলক। এর আগে টেস্টে মাশরাফির তিন, ওয়ানডেতে রুবেল এবং টি–টুয়েন্টিতে তাসকিনের চার উইকেট ছিল এক ইনিংসে সর্বোচ্চ। তাদের ছাড়িয়ে যান হাসান।

ডারউইন টেস্টে ফিল্ডিংয়েও বাংলাদেশের ‘স্বপ্নের মতো’ সময়ের সারথী ছিলেন হাসান। টেস্টের প্রথম দিনেই বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করেছে। প্রথম ঘণ্টায় কোনো উইকেট না এলেও, হাসানের শুরু ছিল জেক ওয়েদারল্যান্ডকে কেন্দ্র করে। তাঁকে টানা অফ স্টাম্পের বাইরে বল করে যেতে থাকেন। ওয়েদারল্যান্ড কখনো কখনো প্রলুব্ধ হলেও উইকেট আসেনি। শেষ পর্যন্ত হাসানের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে ক্যাচ দেন।

এরপর অতিরিক্ত বাউন্স ও মুভমেন্টে খেই হারিয়ে বল স্টাম্পে টেনে আনেন ট্রাভিস হেডের। প্রথম স্পেলেরও শেষ এখানেই।

মাঝের সময়ে তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন চাপ ধরে রাখেন এবং উইকেটও আদায় করেন। মধ্যাহ্নভোজন বিরতির পর হাসান আবার বোলিংয়ে ফিরলে পরিস্থিতি আরও জটিল করেন। প্যাট কামিন্স তাঁর বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিলে তৃতীয় উইকেটের দেখা পান হাসান। এরপর মিচেল স্টার্কও পরের ওভারে একইভাবে আউট হলে আসে চতুর্থ উইকেট।

বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেয়। শুরুতেই জীবন পান তানজিদ। এরপর চা বিরতির পর শুরু থেকেই হাসানকে বোলিংয়ে নিয়ে আসেন অধিনায়ক নাজমুল। ৫ উইকেটের অপেক্ষাটা দীর্ঘ হয়নি। হাসানের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দেন স্টিভ স্মিথ—ফলে ৫ উইকেট পূর্ণ হয়। এরপর শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে নাথান লায়নও হাসানের বলেই ক্যাচ দেন।

টেস্ট ক্যারিয়ারে হাসান তিনবার ইনিংসে ৫ উইকেট পেয়েছেন, আর সবগুলোই প্রতিপক্ষের মাটিতে।

বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে প্রতিপক্ষের মাটিতে টেস্টে সর্বোচ্চ তিনবার ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি এখন হাসানের। এর আগে ২০২৪ সালে চেন্নাই টেস্টে ভারত এবং একই বছর রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে পাকিস্তানের মাটিতে ৫ উইকেট পেয়েছেন। ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটেও ৫ উইকেট আছে তাঁর।

তবে অস্ট্রেলিয়ায় ৫ উইকেট নেওয়া নিঃসন্দেহে হাসানের কাছে আলাদা হয়ে থাকবে। এই কৃতিত্বটা একা নিজের বলে মনে করেন না তিনি; সতীর্থদের ক্রমাগত চাপ ধরে রাখার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন।

ইনিংস বিরতিতে অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি ও এই টেস্টের ধারাভাষ্যকার অ্যাডাম গিলক্রিস্টকে হাসান বলেছেন, ‘এটা একটা সুযোগ। আমি শুধু আমার লাইন–লেন্থ অনুযায়ী বল করেছি, প্রক্রিয়াটা মেনে চলার ও অধিনায়ক যা বলছে তা অনুসরণ করার চেষ্টা করেছি।’