মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের মহেশপুরে একটি পরিত্যক্ত ভিটা থেকে নিখোঁজ এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মোজাম্মেল বেপারী (৫৫) সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মাকহাটি এলাকার বাসিন্দা। গত মঙ্গলবার দুপুরে মুন্সিগঞ্জ শহরের জজকোর্ট এলাকা থেকে তিনি নিখোঁজ হন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ বছর আগে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন মোজাম্মেল বেপারী। দেশে ফেরার পর তিনি বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে জমিজমা নিয়ে মাকহাটি এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর বিরোধ ছিল। এই বিরোধের কারণে তিনি গ্রামের বাড়ি ছেড়ে সদর উপজেলার শিলমান্দি গ্রামে বোনের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, "জমিজমা নিয়ে মাকহাটি এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর বিরোধ ছিল। ঝামেলা এড়াতে তিনি গ্রামের বাড়ি ছেড়ে সদর উপজেলার শিলমান্দি গ্রামে বোনের বাড়িতে থাকতেন।"
মঙ্গলবার দুপুরে বোনের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর মোজাম্মেল বেপারী নিখোঁজ হয়ে যান। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে তাঁর খোঁজ করলেও মেলেনি। অবশেষে বুধবার বিকেলে মহেশপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভিটাতে তাঁর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পান স্বজনরা। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহতের ভাই ও বোনের অভিযোগ, মোজাম্মেল বেপারীকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহটি ওই পরিত্যক্ত ভিটাতে ফেলে রাখা হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, নিহতের মুঠোফোনটি তাঁর স্ত্রীর কাছেই ছিল।
মুন্সিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইমরান আহমেদ বুধবার রাতে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "সন্ধ্যায় মোজাম্মেল বেপারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহে কোথাও আঘাতের কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি। এটি হত্যা, নাকি অন্য কোনো কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।"
এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মঙ্গলবার নিখোঁজ হলেও পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি।