জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের কোনো স্থাবর নিদর্শনের ক্ষতিসাধন করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। অন্যদিকে, জাদুঘরের কোনো অস্থাবর নিদর্শন চুরি, পাচার বা নষ্ট করার অপরাধে অনধিক পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন ২০২৬’-এ এই কঠোর শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, নিদর্শন ও দলিলাদি সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রদর্শনের লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল এই আইনটি প্রণীত হয়।

এই আইনের আওতায় প্রতিষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধন করেন। পরদিন থেকেই সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হয় এই ঐতিহাসিক জাদুঘরটি।

আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী, জাদুঘরের প্রধান কার্যালয় ঢাকার গণভবনে অবস্থিত হবে। এছাড়া ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে যে সকল গোপন কারাগারে মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেগুলো জাদুঘর হিসেবে ঘোষণা, সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করার অধিকার এই জাদুঘরের থাকবে। কোনো গোপন কারাগার যদি নির্দিষ্ট কোনো সংস্থার অধীনে থাকে, তবে সেই সংস্থাটি তা বর্তমান অবস্থাতেই জাদুঘরের নিকট হস্তান্তর করতে বাধ্য থাকবে এবং এই কারাগারগুলো জাদুঘরের শাখা জাদুঘর হিসেবে পরিচালিত হবে।

আইনের ৫ ধারায় জাদুঘরের কার্যাবলির কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ও পলায়ন সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক নিদর্শন ও স্মৃতিচিহ্ন, পূর্ববঙ্গের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট নিদর্শন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিরোধী কার্যক্রম ও ফ্যাসিবাদের উত্থান সংক্রান্ত স্মৃতিচিহ্ন, প্রামাণ্য দলিল, সংশ্লিষ্ট বস্তু ও নিদর্শন অনুসন্ধান, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রদর্শন।

আইনের ১৫ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাদুঘর পর্ষদের সুপারিশ ও সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে প্রদর্শন ও সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বা অন্য কোনো জাদুঘর কিংবা কোনো ব্যক্তির সাথে জুলাই অভ্যুত্থানের নিদর্শন স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বিনিময় করতে পারবে এবং উপহার প্রদান বা গ্রহণ করতে পারবে। তবে এই ধরনের বিনিময়ের ক্ষেত্রে চুক্তি সম্পাদন করা বাধ্যতামূলক।

আইনের ১৬ ধারা অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট কোনো নিদর্শন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে রয়েছে বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকলে মহাপরিচালক বা তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মচারী উক্ত স্থান পরিদর্শন করতে পারবেন এবং আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।

জাদুঘরে প্রবেশাধিকার বিষয়ে ১৭ ধারায় বলা হয়েছে, পর্ষদ কর্তৃক নির্ধারিত প্রবেশ মূল্যের বিনিময়ে সাধারণ জনগণের জাদুঘরে প্রবেশের সুযোগ থাকবে।

দণ্ডের বিষয়ে আইনের ২২ ধারায় বলা হয়েছে, "কোনো ব্যক্তি জাদুঘরের কোনো স্থাবর নিদর্শন বা উহার অংশবিশেষ ধ্বংস, বিনষ্ট, পরিবর্তন বা ক্ষতিসাধন করলে তা হবে অপরাধ এবং সে জন্য তিনি অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।"

২৩ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি জাদুঘরের কোনো অস্থাবর নিদর্শন চুরি, পাচার, ধ্বংস, বিনষ্ট, পরিবর্তন বা ক্ষতিসাধন করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং সেজন্য তিনি অনধিক পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

২৪ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি জাদুঘরের সংগৃহীত বা নিবন্ধিত কোনো নিদর্শনের উপর খোদাইকরণ, লিখন, লিপি উৎকীর্ণ বা স্বাক্ষর করলে তা অপরাধ হবে এবং সেজন্য তিনি অনধিক এক বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

এছাড়া আইনের ২৫ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, জাদুঘরের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এই অপরাধসমূহের দায়ে অভিযুক্ত হলে প্রচলিত দণ্ডের পাশাপাশি শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে। তবে এক্ষেত্রে আদালতে মামলা চলমান থাকলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।