থ্রিলার সাহিত্যের পাঠকদের জন্য নতুন আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। একুশ শতকে প্রকাশিত সেরা থ্রিলার বইগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে পত্রিকাটি, যেখানে মোট ৫০টি বই স্থান পেয়েছে। এই তালিকায় রহস্য, অপরাধ, মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন এবং গুপ্তচরবৃত্তির মতো বিভিন্ন ঘরানার থ্রিলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তালিকাটি প্রস্তুত করতে ২৯১ জন ক্রাইম উপন্যাসের লেখক, সম্পাদক, বই বিক্রেতা, গ্রন্থাগারিক এবং বইপ্রেমীদের মতামত নেওয়া হয়েছে। তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ২০০০ সালের পর প্রকাশিত সেরা ১০টি থ্রিলার বই কোনগুলো?
এর আগে নিউইয়র্ক টাইমস একুশ শতকের সেরা ১০০টি বই নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে সেই তালিকায় ফ্যান্টাসি, রোমান্স, হরর এবং থ্রিলারের মতো জনপ্রিয় ধারার অনেক মানসম্মত বই জায়গা পাচ্ছিল না। এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে এবং একুশ শতকের গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের পরিধি আরও বাড়াতে এবার আলাদাভাবে সেরা থ্রিলার বইগুলোর তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
প্রকাশিত তালিকার শীর্ষস্থানে রয়েছে গিলিয়ান ফ্লিনের ‘গন গার্ল’। ২০১২ সালে প্রকাশিত এই মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলারটি প্রকাশের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। সম্পর্কের জটিলতা, রহস্য এবং মানুষের মনস্তত্ত্বের নিখুঁত উপস্থাপনের কারণে থ্রিলার সাহিত্যে বইটি বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ডেনিস লেহানের ‘মিস্টিক রিভার’। তৃতীয় স্থানে টানা ফ্রেঞ্চের ‘ইন দ্য উডস’ এবং চতুর্থ স্থানে স্টিগ লারসনের ‘দ্য গার্ল উইথ দ্য ড্রাগন ট্যাটু’। পঞ্চম স্থানে করম্যাক ম্যাকার্থির ‘নো কন্ট্রি ফর ওল্ড ম্যান’, ষষ্ঠ স্থানে ওয়িনকান ব্রেইথওয়েটের ‘মাই সিস্টার, দ্য সিরিয়াল কিলার’ এবং সপ্তম স্থানে লিজ মুরের ‘দ্য গড অব দ্য উডস’। অষ্টম স্থানে এস এ কসবির ‘রেজারব্লেড টিয়ারস’, নবম স্থানে মিক হেরনের ‘স্লো হর্সেস’ এবং দশম স্থানে অ্যাটিকা লকের ‘ব্লুবার্ড’ স্থান পেয়েছে।
তালিকার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে এস এ কসবির ‘ব্ল্যাকটপ ওয়েস্টল্যান্ড’ (১১), পলা হকিন্সের ‘দ্য গার্ল অন দ্য ট্রেন’ (১২), কেট অ্যাটকিনসনের ‘কেস হিস্টোরিজ’ (১৩), লায়োনেল শ্রাইভারের ‘উই নিড টু টক অ্যাবাউট কেভিন’ (১৪), মেগান অ্যাবটের ‘ডেয়ার মি’ (১৫), মাইকেল কনেলির ‘দ্য লিঙ্কন লয়ার’ (১৬), ডেনিস লেহানের ‘শাটার আইল্যান্ড’ (১৭), স্টিফেন কিংয়ের ‘১১/২২/৬৩’ (১৮), জিলিয়ান ফ্লিনের ‘শার্প অবজেক্টস’ (১৯) এবং টানা ফ্রেঞ্চের ‘ব্রোকেন হারবার’ (২০)।
এছাড়া তালিকায় স্থান পেয়েছে এমা ডনোহিউর ‘রুম’ (২১), জন লে ক্যারের ‘দ্য কনস্ট্যান্ট গার্ডেনার’ (২২), ডোনা টার্টর ‘দ্য গোল্ডফিঞ্চ’ (২৩), জেন হার্পারের ‘দ্য ড্রাই’ (২৪), ড্যানিয়েল উডরেলের ‘উইন্টার’স বোন’ (২৫), ড্যান ব্রাউনের ‘দ্য দা ভিঞ্চি কোড’ (২৬), লিয়ান মোরিয়ার্টির ‘বিগ লিটল লাইজ’ (২৭), লায়লা স্লিম্যানির ‘দ্য পারফেক্ট ন্যানি’ (২৮), জ্যাঁ হঁফ কোরেলিৎজের ‘দ্য প্লট’ (২৯), ভিয়েত থান নগুয়েনের ‘দ্য সিম্প্যাথাইজার’ (৩০), উইলিয়াম ল্যান্ডের ‘ডিফেন্ডিং জ্যাকব’ (৩১), দানিয়া কুকাফকার ‘নোটস অন অ্যান এক্সিকিউশন’ (৩২), টানা ফ্রেঞ্চের ‘দ্য উইচ এলম’ (৩৩), ট্যানা ফ্রেঞ্চের ‘দ্য লাইকনেস’ (৩৪), এস এ কসবির ‘অল দ্য সিনার্স ব্লিড’ (৩৫), অ্যালেক্স মাইকেলাইডসের ‘দ্য সাইলেন্ট পেশেন্ট’ (৩৬), স্টেফ চার ‘ইয়োর হাউস উইল পে’ (৩৭), টেরি হেইসের ‘আই অ্যাম পিলগ্রিম’ (৩৮), সারা ওয়াটার্সের ‘ফিঙ্গারস্মিথ’ (৩৯), ব্লেক ক্রাউচের ‘ডার্ক ম্যাটার’ (৪০), হারলান কোবেনের ‘টেল নো ওয়ান’ (৪১), ক্যারোলিন কেপনেসের ‘ইউ’ (৪২), রিচার্ড প্রাইসের ‘লাশ লাইফ’ (৪৩), জেনিফার হিলিয়ারের ‘জার অব হার্টস’ (৪৪), সিলভিয়া মোরেনো-গার্সিয়ার ‘মেক্সিকান গথিক’ (৪৫), এস জে ওয়াটসনের ‘বিফোর আই গো টু স্লিপ’ (৪৬), অ্যাশলি অড্রেইনের ‘দ্য পুশ’ (৪৭), ক্রিস হুইটেকারের ‘অল দ্য কালারস অব দ্য ডার্ক’ (৪৮), অ্যান্টনি হরোউইটজের ‘ম্যাগপাই মার্ডারস’ (৪৯) এবং লিসা জুয়েলের ‘নান অব দিস ইজ ট্রু’ (৫০)।