দেশব্যাপী তীব্র লোডশেডিংয়ের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ এবং এর সুযোগে নাশকতার আশঙ্কায় কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের কাছে নিরাপত্তার আবেদন জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) এবং কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি পৃথক দুটি চিঠি প্রদান করেছে।

গত সোমবার ও মঙ্গলবার প্রেরিত এই চিঠি দুটির অনুলিপি জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ওজোপাডিকোর পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সারা দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম থাকায় কুষ্টিয়াতেও ব্যাপক লোডশেডিং হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ না পেয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। এই সুযোগে কেপিআইভুক্ত স্থাপনাসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক পরিকাঠামোয় নাশকতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্র ও এর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন ও নজরদারি বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশে গড়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি থাকায় পল্লী বিদ্যুৎ অঞ্চলেও এর তীব্র প্রভাব পড়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, শিল্পকারখানা, কৃষক ও অফিস-আদালতের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যা থেকে জনমনে ক্ষোভের দানা বাঁধছে।

এ বিষয়ে ওজোপাডিকো কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন বলেন, "লোডশেডিংয়ের সুযোগ নিয়ে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে চিঠি দিয়েছি।"

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ জানান, "দুটি চিঠি পেয়েছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করছে এবং স্পর্শকাতর ও কেপিআইভুক্ত কেন্দ্রগুলোতে পুলিশের নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।"