খাগড়াছড়ি শহরের চেঙ্গী স্কয়ার এলাকা থেকে ৫ বস্তা গুইসাপসহ প্রেমরাছো মারমা (৪৭) নামের এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। আটক নারী জেলার পানছড়ি উপজেলার কুরাদিয়াছড়া গ্রামের অংগিও মারমার স্ত্রী।

বুধবার (১২ আগস্ট) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ অভিযানে চেঙ্গী স্কয়ার এলাকায় একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। এসময়ই বস্তাবন্দি গুইসাপগুলো উদ্ধার করা হয়।

আটক নারী পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন যে, তিনি চট্টগ্রামের বারইয়ারহাট থেকে ২২ হাজার টাকায় গুইসাপগুলো কিনেছিলেন এবং বিক্রির উদ্দেশ্যে খাগড়াছড়িতে নিয়ে এসেছিলেন।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দুর্জয় গোস্বামী জানান, আটক নারীকে খাগড়াছড়ি সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি এই ঘটনায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শী মো. মেহেদী হাসান জানান, চেঙ্গী স্কয়ারে রহস্যজনক বস্তা নিয়ে ওই নারীকে আটক করার পর স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পারেন। পরবর্তীতে বন বিভাগের প্রতিনিধিরা এসে গুইসাপগুলো উদ্ধার করে নিয়ে যান।

খাগড়াছড়ি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা জানান, উদ্ধার করা ৫টি বস্তায় মোট ২৪টি গুইসাপ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১০টি জীবিত এবং ১৪টি মৃত ছিল। জীবিত ১০টি গুইসাপকে পরবর্তীতে আলুটিলার প্রাকৃতিক বনে অবমুক্ত করা হয়েছে এবং মৃত গুইসাপগুলো মাটির নিচে চাপা দেওয়া হয়েছে।

বন কর্মকর্তা আরও বলেন, "বন্যপ্রাণী প্রকৃতির অমূল্য অলংকার। বন্যপ্রাণী ধরা, কেনাবেচা বা শিকার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এমন অপরাধের বিরুদ্ধে বন বিভাগের কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।"