সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে তথ্য সংগ্রহকারী পদে পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও এক নারীর নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা জুলি বেগম নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তবে সমালোচনার পর তার নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার (১০ আগস্ট) একই গ্রামের পরীক্ষার্থী সুলতান আহমেদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এদিকে, ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে সুপারভাইজার, তথ্য সংগ্রহকারী ও স্বেচ্ছাসেবী পদে অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগ তুলে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করছেন।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নোয়াগাঁও গ্রামে তথ্য সংগ্রহকারী পদের জন্য আবেদন করেন সুলতান আহমেদ ও বিউটি বেগম। তারা ২৬ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু ৯ আগস্ট চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুই প্রার্থীকে বাদ দিয়ে জুলি বেগমের নাম তালিকায় ৪৩ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যিনি কোনো পরীক্ষায় অংশ নেননি। এ ঘটনায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগকারী সুলতান আহমেদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "আমরা যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করি। অথচ জুলি বেগম পরীক্ষাই দিলেন না, কিন্তু তার নাম তালিকায় প্রকাশিত হয়। এমন অনিয়ম হওয়ায় আমি ইউএনও স্যারের কাছে একটি আবেদন করি। তবে তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে কি-না আমি জানি না। এই বিষয়ে আমাকে এখনও কেউ কিছু জানায়নি।"

বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসলাম উদ্দিন মুক্তকণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন যে, জুলি বেগমের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "নিয়োগের কাজ প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এখনও কোনো কিছু চূড়ান্ত করা হয়নি। যার নাম ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছিল তিনি আবেদন করেছিলেন। তার নাম অপেক্ষমাণ তালিকায় ছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি নজরে আসার পর তার নাম বাদ দিয়ে তালিকা সংশোধন করা হয়েছে।"