নোয়াখালীর আবাসিক, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং সিএনজি স্টেশনগুলোতে হঠাৎ গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ২৯ হাজার ৩৫০ গ্রাহক। এলএনজি টার্মিনালের সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না বাখরাবাদ কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টার পর থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এই সংকট শুরু হয়। এর ফলে প্রায় ২৯ হাজার আবাসিক ও ৩৫০ বাণিজ্যিক গ্রাহক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে জেলার সাতটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনেও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহক ও ব্যবসায়ীরা।
বাখরাবাদ সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালীতে প্রতিদিন গড়ে ১৬ থেকে ১৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকে। বর্তমানে এলএনজি টার্মিনালের সমস্যার কারণে ফেনী গ্রিড থেকে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনীর প্রধান লাইনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে আবাসিক গ্রাহকদের পাশাপাশি শিল্প-কারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং সিএনজি স্টেশনগুলো সংকটে পড়েছে। তবে সরবরাহ পুনরায় চালু হওয়ার নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি।
মাইজদীর পশ্চিম সাহাপুর এলাকার বাসিন্দা উম্মে কুলসুম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "গত কয়েক দিন গ্যাসের চাপ কম থাকলেও কোনো কোনো সময় অল্প গ্যাস পাওয়া গেলে চুলা জ্বলত। কিন্তু আজ দুপুর থেকে একেবারেই গ্যাস নেই। রান্নাবান্না নিয়ে খুব সমস্যায় পড়েছি।"
অন্যদিকে, স্থানীয় একাধিক হোটেল কর্মচারীর সূত্রে জানা গেছে, সকাল পর্যন্ত রান্নাবান্না স্বাভাবিক থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাসের চাপ কমতে থাকে এবং একপর্যায়ে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে গ্রাহকদের খাবার সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেকে বেশি দামে সিলিন্ডার গ্যাস কিনে রান্নার কাজ চালিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
বাখরাবাদ নোয়াখালী অঞ্চলের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ব্যবস্থাপক নূর করিম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "বুধবার দুপুর ১২টা থেকে ফেনী গ্রিডের প্রধান লাইনে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনীর গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এলএনজি টার্মিনালের সমস্যার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, গত সপ্তাহে গ্যাসের সংকট থাকলেও নোয়াখালীর সোনদলপুর ও বেগমগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদিত প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মাধ্যমে জেলার কিছু এলাকায় সরবরাহ চালু রাখা হয়েছিল। কিন্তু বুধবার দুপুর থেকে জেলাজুড়ে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।