নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ এবং সুপারভাইজার নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা। বিক্ষোভের সময় ইউএনও কার্যালয়ের দরজায় লাথি, ফুলের টব ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়।
আজ বুধবার সকাল ১১টা থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিকেল চারটা পর্যন্ত প্রতিবেদনের সময় বাগাতিপাড়ায় নেতা-কর্মীরা ইউএনও কার্যালয়ের সামনে এবং লালপুরে উপজেলা পরিষদ ভবনের হলরুমে অবস্থান করছিলেন। এ সময় দুই উপজেলার ইউএনওদের কার্যালয়ে থাকা নিয়ে অবরুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে জানা গেছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
বাগাতিপাড়ার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, সকাল ১১টার দিকে মালঞ্চি রেলগেট এলাকা থেকে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল রানার নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলে থাকা নেতা-কর্মীরা উপজেলা পরিষদের দ্বিতীয় তলায় ইউএনওকে অবরুদ্ধ করে কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে তাঁরা ইউএনওর কক্ষের দরজায় লাথি মারেন এবং ফুলের টব ভাঙচুর করেন। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা ও উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের বাগ্বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
ঘটনার সময় ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা সাংবাদিক ফজলুর রহমানের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমিসহ অনেকেই ভিডিও করছিলাম। হঠাৎ ছাত্রদলের এক ছেলে আমার ফোন কেড়ে নেয়।’
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতা সোহেল রানা বলেন, ‘ইউএনও এই নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল তৈরিতে সুনির্দিষ্ট অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন। পরীক্ষা দেয়নি এমন ব্যক্তিকে পাস করিয়েছেন। আমরা এই ফলাফল মানি না।’
এ বিষয়ে কথা বলতে বাগাতিপাড়ার ইউএনও দেবাশীষ বসাকের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ধরেননি। তাঁর কার্যালয়ে থাকা বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হান্নান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে আছি। ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে ছেলেরা মিছিল করছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি।’
অন্যদিকে লালপুর ইউএনও কার্যালয় সূত্র জানায়, দুপুর ১২টার দিকে ৪০ থেকে ৫০ জন মিছিল করতে করতে কার্যালয়ের সামনে আসেন। তাঁরা ইউএনওর গাড়ি ঘিরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে তাঁরা মিছিল নিয়ে দোতলায় ইউএনও কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন। এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, বিএনপি–সমর্থিত বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান, গোপালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম, ঈশ্বরদী ইউপির চেয়ারম্যান মো. রঞ্জুসহ নেতা–কর্মীরা বিক্ষোভকারীদের দাবিদাওয়া নিয়ে ইউএনওর সঙ্গে কথা বলেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। বিকেল চারটা পর্যন্ত বিএনপির নেতা-কর্মীরা উপজেলা পরিষদের হলরুমে ও ইউএনও নিজ কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন।
ঘটনার সময় বিক্ষোভকারীরা সাংবাদিক রাশিদুল ইসলাম ও সজিবুল ইসলামকে কিলঘুষি মেরে তাঁদের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের। তাঁরা এ ঘটনার বিচার দাবি করেছেন।
জানতে চাইলে বিএনপি নেতা হারুন অর রশিদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘এটা দলীয় কোনো বিক্ষোভ না। ফলাফলে কিছু অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে। এ কারণে চাকরিবঞ্চিতরা বিক্ষোভ করছেন। আমরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছি।’
এ বিষয়ে লালপুরের ইউএনও মো. বরকত উল্লাহকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ধরেননি। তবে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী মাসুদুর রহমান বিকেল চারটার দিকে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘নিয়োগের ফলাফল বাতিল চেয়ে কিছু লোক বিক্ষোভ করছে। স্যার অফিস কক্ষে আছেন। তাঁর দুপুরের খাওয়াদাওয়া হয়নি। বিএনপি নেতা-কর্মীরা হলরুমে বসে আছেন। তাঁদের সঙ্গে থানার ওসি কথা বলছেন।’
লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘খবর পাওয়ামাত্র আমি ইউএনও কার্যালয় চত্বরে এসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি। পরিস্থিতি এখন শান্ত আছে। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।’