সিলেট নগরের একটি বাসা থেকে স্বামী, স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকার গলাকাটা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় জমিজমা নিয়ে বিরোধ কিংবা ডাকাতির মতো বিষয় থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

আজ বুধবার সকালে রায়নগরের মিতালি আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় ভেতর থেকে বন্ধ একটি ঘর থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। তাঁরা হলেন বাসাটির বাসিন্দা আবদুস সাত্তার (৯০), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (২০)।

.সিলেটে বাসা থেকে স্বামী–স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকার গলাকাটা লাশ উদ্ধার.

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে আবদুস সাত্তারের বাসা থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পান কয়েকজন প্রতিবেশী। পরে পাশের একটি ভবন থেকে কেউ ওই বাসার বারান্দার দরজার নিচে রক্ত দেখতে পান। বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের জানানো হলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

মিতালি সমাজকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক মুক্তকণ্ঠকে বলেন, খবর পেয়ে তিনি দ্রুত সেখানে গিয়ে দরজায় ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাননি। পরে নিচে নেমে দ্বিতীয় তলার বারান্দার দরজা খোলা দেখতে পান। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

বেলা ১১টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ বাসাটিতে যায়। ভেতর থেকে বন্ধ ঘরের ড্রয়িংরুমে আবদুস সাত্তারের রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়। তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনার লাশ পাওয়া যায় অন্য কক্ষে।

.

পুলিশ জানায়, আবদুস সাত্তারের ঘরটি ভেতর থেকে বন্ধ থাকলেও বারান্দার দরজা খোলা ছিল। বাসার ভেতর থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু জিনিসপত্র খোয়া গেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তি জড়িত ছিল কি না এবং বাইরে থেকে কেউ বারান্দা দিয়ে বাসায় ঢুকেছিল কি না, তা-ও তদন্ত করা হচ্ছে।

আবদুস সাত্তার আগে সিলেট নগরের কালিঘাট এলাকায় পাইকারি পণ্যের ব্যবসা করতেন। পরে আম্বরখানা এলাকায় মানি এক্সচেঞ্জের ব্যবসা ছিল। পরিবারে তাঁর এক ছেলে ও তিন মেয়ে। তাঁরা সবাই প্রবাসী। ছেলে ও এক মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এবং দুই মেয়ে যুক্তরাজ্যে থাকেন।

আবদুস সাত্তারের স্বজন ইফতেখার আহমদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, আবদুস সাত্তারের মূল বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের আকা খাজনা গ্রামে। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১১টার দিকে খবর পেয়ে তিনি ওই বাসায় আসেন। তবে কারও সঙ্গে বিরোধ ছিল বলে তাঁর জানা নেই।

.
‘নিকুঞ্জ ভিলা’ নামের চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় আবদুস সাত্তার স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকাকে নিয়ে থাকতেন। ভবনের নিচতলার একটি ফ্ল্যাট প্রায় ১৫ দিন ধরে খালি। তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় দুটি পরিবার বসবাস করে। ভবনের প্রতিটি তলায় বারান্দা আছে। নিচতলার বারান্দায় লোহার গ্রিল থাকলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার বারান্দায় গ্রিল নেই।
.

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, রায়নগরের মিতালি আবাসিক এলাকায় পাশাপাশি দুটি ভবন আছে। এর একটি চারতলা ও অন্যটি তিনতলা। ‘নিকুঞ্জ ভিলা’ নামের চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় আবদুস সাত্তার স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকাকে নিয়ে থাকতেন। ভবনের নিচতলার একটি ফ্ল্যাট প্রায় ১৫ দিন ধরে খালি। তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় দুটি পরিবার বসবাস করে। ভবনের প্রতিটি তলায় বারান্দা আছে। নিচতলার বারান্দায় লোহার গ্রিল থাকলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার বারান্দায় গ্রিল নেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বাইরে থেকে নিচতলা বেয়ে দ্বিতীয় তলার বারান্দায় ওঠা সম্ভব।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আবদুস সাত্তারের নিচতলার একটি ঘরে মেরামত ও রঙের কাজ চলছিল। আজ সকালে রঙের মিস্ত্রিরা কাজ করতে এসেছিলেন। কিন্তু ঘরের ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে তাঁরা ফিরে যান।

.
কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ঘরের ওয়ার্ডরোব খোলা ছিল। এর ওপর একটি দলিল পাওয়া গেছে। এ কারণে জমিজমা নিয়ে বিরোধ কিংবা ডাকাতির ঘটনার জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সারোয়ার মুর্শেদ শামীম, সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার
.

সকালে বিদ্যুৎ ছিল না জানিয়ে ভবনের চতুর্থ তলার ভাড়াটিয়া কলেজছাত্র রাকিব আহমদ বলেন, তিনি তেমন চিৎকারের শব্দ শুনতে পাননি।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ঘরের ওয়ার্ডরোব খোলা ছিল। এর ওপর একটি দলিল পাওয়া গেছে। এ কারণে জমিজমা নিয়ে বিরোধ কিংবা ডাকাতির ঘটনার জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্তের পর আরও পরিষ্কার হবে।