বরিশাল জেলা জজ আদালতের মূল ফটকের ভেতরে একটি রহস্যজনক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার আদালতের কার্যক্রম চলাকালীন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে পৌনে ১১টার মধ্যে প্রবেশপথের বাম পাশে এই বিস্ফোরণটি ঘটে। এতে বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সবার মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বিস্ফোরণের ধরন সম্পর্কে পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট কাচের গুঁড়া, প্লাস্টিক ও বারুদের উপকরণ সংগ্রহ করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকা থেকে বোম্ব ডিসপোজাল টিমের সদস্যরা এসে আলামত পরীক্ষা করার পর বিস্ফোরণটি কী ধরনের ছিল এবং এতে কোনো বোমা বা বিস্ফোরক ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ঘটনার পরপরই আদালত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃষ্টির কারণে বিস্ফোরণস্থলের মাটি ভেজা ও কর্দমাক্ত ছিল এবং মাটির ওপরের অংশ হলুদ হয়ে আছে। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা সেখানে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করে আলামত সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যান।

সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের ইনচার্জ খলিলুর রহমান বলেন, “তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে কাচের গুঁড়া, প্লাস্টিক ও বারুদের উপকরণ আছে।”

ঘটনার সময় উপস্থিত একাধিক আইনজীবী জানান, হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণটি ঘটে। প্রথমে অনেকে ভেবেছিলেন কোনো বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বা গাড়ির টায়ার ফেটেছে। তবে প্রবেশ ফটকের বাম পাশে বিস্ফোরণস্থল দেখার পর তাঁদের ধারণা হয়, কোনো বোমাসদৃশ বস্তু বিস্ফোরিত হয়েছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বরিশাল মহানগর পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ। মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার বলেন, “তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্ফোরণের প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত বলা যাবে। ঘটনাটি ঘিরে আদালত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।”

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটিকে বোমা বা নির্দিষ্ট কোনো ধরনের বিস্ফোরক হিসেবে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, এর আগে ৩ আগস্ট বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত দুধলমৌ গ্রামের একটি বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। এতে ওই বাড়ির এক শিশু ও দুই নারী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তদন্তে জানা গেছে, বাকেরগঞ্জের ওই বিস্ফোরণটি কোনো ককটেল ছিল না।