সিলেট মহানগরের রায়নগর আবাসিক এলাকার ‘মিতালী ১১১’ নম্বর বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রী এবং তাদের গৃহকর্মীর গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পুলিশ কমিশনার জানান, এই ঘটনাটি ডাকাতির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে নাকি এর পেছনে কোনো পারিবারিক শত্রুতা বা পূর্ববিরোধ রয়েছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, "ঘটনাটি ডাকাতি, নাকি এর পেছনে পারিবারিক শত্রুতা বা পূর্ববিরোধ রয়েছে—তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।"

তদন্তকারী দল লক্ষ্য করেছে যে, বাসাটির ওয়ারড্রোব ও আলমারিগুলো খোলা অবস্থায় ছিল। সেখান থেকে স্বর্ণালংকার বা অন্য কোনো মূল্যবান সামগ্রী খোয়া গেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে একটি দলিল উদ্ধার করা হয়েছে, যা তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে বলে জানান কমিশনার।

ক্রাইম সিনে কোনো অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে কি না সে বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন, "মরদেহগুলোতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে আপাতত ঘটনাস্থলে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি।" তিনি আরও জানান, মরদেহগুলোতে কীভাবে আঘাত করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে সিআইডির ফরেনসিক টিম।

পুলিশ কীভাবে এই ঘটনার কথা জানতে পারে, সে বিষয়ে তিনি জানান, বুধবার সকালে স্থানীয় এক বাসিন্দা তাকে ফোন করে জানান যে, ওই বাসাটির দরজা বন্ধ এবং দরজার নিচ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে বের হচ্ছে। এই তথ্যের পরপরই পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।

রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশের তৎপরতার কথা উল্লেখ করে কমিশনার বলেন, "রহস্য উদ্‌ঘাটনে আমাদের টিম কাজ করছে। খুব দ্রুতই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।" এই ঘটনায় কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা পুলিশকে জানিয়ে সহায়তা করার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সেখানে উপস্থিত পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি সার্বিক পরিস্থিতি খোঁজখবর নেন।