গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কোনো গোপন তৎপরতায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষক জড়িত আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এস এম মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আদেশে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক একটি গোপন অপতৎপরতায় যুক্ত হয়েছেন। এই সংবাদের প্রেক্ষিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত কি না, তা সুষ্ঠুভাবে অনুসন্ধানের লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম। সদস্য-সচিব হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন ছাত্র বিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন। এছাড়া কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন শিক্ষা স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক, আইন স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নাসিফ আহসান এবং সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. শেখ শারাফাত হোসেন।
আগামী এক মাসের মধ্যে বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে তদন্ত কমিটিকে।
এ বিষয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রেজাউল করীম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ে আগে থেকেই আওয়ামী তৎপড়তা সনাক্ত করার জন্য কমিটি করা আছে। তারা তাদের কাজ করছে। কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে আমরা এশিয়াপোষ্ট অনলাইন পোর্টালে দেখলাম দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক হাসিনাকে ফেরাতে গোপন তৎপড়তা শুরু করেছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক জড়িত কি না এটা জানার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করে দেশের প্রচলিত আইনের বিরুদ্ধে তৎপড়তা চালাতে দেয়া হবে না।"