রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়ন প্রায় চূড়ান্ত হয়ে আসায় দলটির সাংগঠনিক নেতৃত্বে পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তার শূন্য পদে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। দলীয় সূত্রমতে, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

মির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং তার শূন্য পদে নতুন নেতৃত্বের বিষয়ে জানতে চাইলে রুহুল কবির রিজভী বলেন, “২০-২১ আগস্টের মধ্যে সব চূড়ান্ত হয়ে যাবে। দলের চেয়ারম্যান বিষয়টি চূড়ান্ত করবেন। এখানে কারও ইচ্ছা-অনিচ্ছার বিষয় নেই।”

দলের হাইকমান্ডের ওপর আস্থাশীল বলেও জানান তিনি।

বিএনপির ভেতরে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছে যে, মির্জা ফখরুলের স্থলাভিষিক্ত কে হবেন। সাংগঠনিক কার্যক্রমে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে রিজভীর নাম সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এছাড়া বিএনপির অতীত রীতিতে প্রথম যুগ্ম মহাসচিবকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার পর কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করার নজির রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় রিজভীকে প্রথমে ভারপ্রাপ্ত এবং পরবর্তীতে জাতীয় কাউন্সিলে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতে, রিজভীর সবচেয়ে বড় শক্তি তার সাংগঠনিক যোগাযোগ। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর ও রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে তার দীর্ঘদিনের ভূমিকা তাকে অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রেখেছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান গণমাধ্যমে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান মুখ। দীর্ঘ ১৭ বছরের সরকারবিরোধী আন্দোলনে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে তার বলিষ্ঠ বক্তব্য ও সক্রিয়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করেন দলের নেতারা।

সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই রিজভী দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিবের দায়িত্ব নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে এই দায়িত্ব পালনকালে তিনি ছয়বার কারাবরণ করেছেন। তবে চলতি বছরের ডিসেম্বর বা আগামী বছরের শুরুতে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে পারে। মির্জা ফখরুল নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ওই কাউন্সিলে তিনি মহাসচিব পদে থাকছেন না।

২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং বিএনপির একাধিক সূত্রের দাবি, ওই নির্বাচনে মির্জা ফখরুলকে দলীয় প্রার্থী করার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত। ফলে তিনি নির্বাচিত হলে তার মহাসচিবের দায়িত্ব শেষ হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।