অস্ট্রেলিয়ান এক সাংবাদিক কৌতূহল থেকে প্রশ্ন করেন, ‘লিটন দাস কি খেলবেন?’ জবাবে অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের কণ্ঠে আসে স্বস্তি, ‘হ্যাঁ, সে এখন শতভাগ ফিট।’

চোট কাটিয়ে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে যোগ দিলেও প্রস্তুতি ম্যাচে খেলেননি লিটন। টেস্টের আগে তাঁর ফিট হয়ে ওঠা বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়েও বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে—এ কথাও পরে উল্লেখ করেন নাজমুল।

আগামীকাল সকাল সাড়ে ছয়টায় শুরু হতে যাওয়া টেস্টে বাংলাদেশ দলকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে—এ বাস্তবতাও মানছেন নাজমুল। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে তিন চক্রের দুটিতে ফাইনাল খেলা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে ২৩ বছর পর টেস্ট খেলতে নামবে বাংলাদেশ। সিরিজটি দুই টেস্টের, এর মধ্যে প্রথমটির ভেন্যু মারারা স্টেডিয়াম।

বাংলাদেশ কতটা লড়াই করতে পারবে—এ নিয়ে সংশয় আছে কারও কারও মনে। তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। তাই টেস্টে লড়াইয়ের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়।

তবে ডারউইনে সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল বলেন, ‘আমরা তো খেলোয়াড় হিসেবে পাঁচ দিন ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই, প্রতিটা সেশন বাই সেশন খেলতে চাই, আমরা যেটা সব সময় বলি।’

এ প্রসঙ্গে তাঁর ব্যাখ্যা, ‘একেকটা সেশন গুরুত্বপূর্ণ। চার দিন যাবে, পাঁচ দিন যাবে, নাকি তিন দিন যাবে—এ ধরনের আলোচনা থাকবেই। কিন্তু খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের সব সময় লক্ষ্য থাকবে যে আমরা কত ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি।’

২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। ওই সিরিজের দুই ম্যাচেই তারা হেরেছিল ইনিংস ব্যবধানে। এরপর দল হিসেবে বাংলাদেশ অনেকটাই বদলে গেছে। টেস্টে সাম্প্রতিক সময়ে পারফরম্যান্সও তুলনামূলকভাবে উজ্জ্বল। তবু অস্ট্রেলিয়ার ব্যবধান এখনো বড়ই। দুই টেস্টের সিরিজ শুরুর আগে তাই নাজমুল জানিয়েছেন, ব্যক্তিগতভাবে ভালো করার পাশাপাশি দল হিসেবে ইতিবাচক ফলের দিকেই লক্ষ্য থাকবে।

নাজমুলের ভাষায়, ‘কাউকে বাড়তি প্রেরণা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সবাই জানে এখানে একটা বড় স্কোর, ৫ উইকেট, দল হিসেবে ভালো করা—এসব আমাদের নিজেদের জন্য ও আমাদের দলের ভবিষ্যতের জন্য খুব ভালো কাজে দেবে। এ প্রেরণাই সবার ভেতর কাজ করছে। আমার দেখে মনে হচ্ছে, ভালো করতে সবাই অনেক আত্মবিশ্বাসী।’

বাংলাদেশের জন্য আরেকটি সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন। সেখানে উইকেটে সাধারণত সুবিধা পান পেসাররা। মারারা স্টেডিয়ামে ড্রপ ইন পিচ বসানো হয়েছে। এই অবস্থায় নাজমুল বলেন, ‘আমার মনে হয়, নতুন বলে সব সময় সব জায়গায় চ্যালেঞ্জ থাকে, এখানে হয়তো একটু বেশি থাকবে। এখানে যতক্ষণে আমরা ব্যাটিং করব, যে-ই ব্যাটিং করবে, যার যার সহজাত খেলাটা খেলবে এবং রানের জন্য খেলবে।’

নাজমুল যোগ করেন, ‘লম্বা সময় মনোযোগ ধরে রেখে ব্যাটিং করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তারা খুবই ভালো বোলিং অ্যাটাক। তাই এই অ্যাটাককে ঠিকমতো সামলাতে হলে আমাদের অবশ্যই আরও অনেক বেশি মনোযোগ এবং ভালো চিন্তাভাবনা নিয়ে ব্যাটিং করতে হবে।’

.
বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার একাদশে ‘বিগ থ্রি’