গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন চৌধুরীকে নিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ওই অধিদপ্তর। ‘ফুপুর ফাঁপরে জালিয়াতিতে শাস্তিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশল’ শিরোনামের ওই সংবাদটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করা হয়েছে।

সোমবার (১১ আগস্ট) গণপূর্ত অধিদপ্তরের আইন কর্মকর্তা (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ ইকরামুল হক সরকার স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদলিপি মুক্তকণ্ঠের সম্পাদকের নিকট পাঠানো হয়।

এর আগে দুপুরে মুক্তকণ্ঠে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রধান প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন চৌধুরীর পদোন্নতি, মামলা, বদলি এবং টেন্ডার কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে প্রতিবাদলিপিতে জানানো হয়েছে, এসব অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই।

প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা হয়, মো. দেলোয়ার হোসেন চৌধুরীর প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন এবং পূর্ববর্তী পদোন্নতিগুলো সরকারি নিয়মকানুন, মেধা, যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। রাজনৈতিক তদবির বা আত্মীয়তার প্রভাব খাটিয়ে জ্যেষ্ঠতা ডিঙিয়ে তিনি পদোন্নতি পেয়েছেন—সংবাদে করা এমন দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছে অধিদপ্তর।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রমনা থানার কোনো মামলায় জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদের নাম জড়ানোর অভিযোগের বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, তা সত্য নয় এবং ওই মামলার সঙ্গে অধিদপ্তরের দাপ্তরিক কোনো সম্পর্ক নেই। এছাড়া সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড (এসএসবি) বিভাগীয় তথ্যের ভিত্তিতে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে কাউকে মামলায় জড়িয়ে পদোন্নতি পাওয়ার অভিযোগটি অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে।

বদলি ও টেন্ডার-বাণিজ্যের অভিযোগকে কাল্পনিক আখ্যা দিয়ে সংস্থাটি জানায়, অধিদপ্তরের সব বদলি প্রশাসনিক প্রয়োজন ও প্রচলিত নিয়ম মেনে করা হয়। দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের পুনরায় সুযোগ দেওয়ার অভিযোগটিও সঠিক নয় বলে দাবি করা হয়।

প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট বা ই-জিপি ব্যবস্থায় টেন্ডার কার্যক্রম পরিচালিত হয়, যেখানে ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কিংবা কমিশন-বাণিজ্যের কোনো সুযোগ নেই।

ভুয়া অফিস লেটার ও শিক্ষা ছুটি সংক্রান্ত একটি মীমাংসিত দাপ্তরিক বিষয়কে সংবাদে বাড়িয়ে তোলা হয়েছে এবং বিষয়টিতে রাজনৈতিক রং দিয়ে বর্তমান প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের দাবি, প্রধান প্রকৌশলীর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এবং উন্নয়নমূলক কাজ বাধাগ্রস্ত করতে কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের ইশারায় সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে।