নীলফামারীর ডোমারে দীর্ঘ ও অনিয়মিত লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি সহায়তার আবেদন জানিয়েছে নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডোমার জোনাল অফিস। গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার এবং রাতে পুলিশ টহল বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে ডোমার থানায় একটি লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত ৯ আগস্ট ডোমার জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এ কে এম আলাউদ্দিন স্বাক্ষরিত চিঠিটি থানায় পাঠানো হয়।
আবেদনে জানানো হয়েছে, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহে ঘাটতি থাকায় জাতীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বরাদ্দ পাওয়া বিদ্যুৎ এলাকাভিত্তিক ভাগ করে লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত গরমের দিনে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের ফলে গ্রাহকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছানোর পাশাপাশি স্থানীয় জনমনে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আগাম পুলিশি নিরাপত্তা প্রয়োজন।
এই প্রেক্ষিতে ডোমার জোনাল অফিসের আওতায় থাকা মূল কার্যালয়, উপকেন্দ্র-১ (আন্ধারুর মোড়) এবং চিলাহাটী অভিযোগ কেন্দ্রে রাতের বেলায় সার্বক্ষণিক পুলিশ টহল ও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উল্লিখিত স্থাপনাগুলো বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখার মূল কেন্দ্রবিন্দু। সুতরাং কার্যালয় ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিতরণ স্বাভাবিক রাখা সহজ হবে।
উল্লেখ্য, চিঠিতে এখন পর্যন্ত কোনো হামলা বা সরাসরি নাশকতার অভিযোগ করা হয়নি। কেবল সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পুলিশের সহযোগিতা ও টহল চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ জানান, চিঠি পাওয়ার পর ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসে সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিয়মিত টহল অভিযান অব্যাহত রয়েছে।