গোপালগঞ্জ জেলা শহরে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) গ্রাহকেরা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের সম্ভাব্য হামলা বা নাশকতার আশঙ্কায় নিজেদের দপ্তর, উপকেন্দ্র এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দিয়েছে ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ওজোপাডিকোর গোপালগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নিরাপত্তা অনুরোধ জানানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গোপালগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় ওজোপাডিকোর পাওয়ার হাউজ, দপ্তর ক্যাম্পাস এবং চরপাথালিয়ায় অবস্থিত দুটি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। তবে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে, যার ফলে ওই এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে সৃষ্ট অসন্তোষ থেকে কোনো ব্যক্তি বা জনসাধারণের মাধ্যমে দপ্তর, বৈদ্যুতিক স্থাপনা কিংবা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ বা অন্য কোনো অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটতে পারে। এই ধরনের নাশকতা এড়াতে ওজোপাডিকোর গোপালগঞ্জ দপ্তরের সব স্থাপনা ও ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রগুলোকে নিয়মিত পুলিশ টহল রুটের আওতায় আনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজরদারির মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে মুক্তকণ্ঠকে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, "দপ্তরসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা চেয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ উৎপাদন হওয়ায় গোপালগঞ্জ শহরে লোডশেডিং হচ্ছে।"
বিদ্যুতের ঘাটতির পরিমাণ ব্যাখ্যা করে তিনি আরও বলেন, "গোপালগঞ্জে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে ৯ থেকে ১০ মেগাওয়াট। ফলে বাধ্য হয়েই ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। এতে গ্রাহকদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।"
গ্রাহকদের ক্ষোভের কথা উল্লেখ করে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, "লোডশেডিং নিয়ে গ্রাহকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে দপ্তর ও উপকেন্দ্রে হামলা করতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণেই দপ্তর, উপকেন্দ্র ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।"