ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালে ‘ফুটবল সিগমা’ কুইজ প্রতিযোগিতার মেগা বিজয়ীদের পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মুক্তকণ্ঠ কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ী পাঁচজনকে দুটি ই–বাইক, দুটি টেলিভিশন ও একটি আইফোন দেওয়া হয়। মুক্তকণ্ঠের এ আয়োজনে সহযোগিতায় ছিল বিকাশ।

মেগা বিজয়ী হিসেবে ই–বাইক পেয়েছেন ঢাকার সাজ্জাদ হোসেন ও চট্টগ্রামের রাইসুল কবির। এলইডি টিভি পেয়েছেন মানিকগঞ্জের রেবেকা আক্তার ও ময়মনসিংহের ফরহাদ আহম্মেদ। এ ছাড়া পুরো টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ পয়েন্ট অর্জন করে আইফোন ১৭ প্রো–ম্যাক্স পেয়েছেন কুমিল্লার মো. ফারুক মিয়া।

বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিকাশের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার মঈনুদ্দিন এম রাহগীর, ইভিপি ও হেড অব ডিজিটাল অ্যাসেটস অ্যান্ড কমিউনিকেশনস ইশতিয়াক শাহরিয়ার, হেড অব অনলাইন শওকত হোসেন, মুক্তকণ্ঠের প্রধান ক্রীড়া সম্পাদক উৎপল শুভ্র এবং চিফ ডিজিটাল বিজনেস অফিসার এ বি এম জাবেদ সুলতান।

বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে বিকাশের মঈনুদ্দিন এম রাহগীর বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল এ আয়োজনের মাধ্যমে জেন–জিদের বিশ্বকাপ উন্মাদনাকে উদ্‌যাপন করা। পুরো বিশ্বকাপ চলাকালে এ প্রজন্মের বিশালসংখ্যক তরুণ কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। আমরা ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। মুক্তকণ্ঠকে ধন্যবাদ সফলভাবে এ ক্যাম্পেইন আয়োজনের জন্য।’

ইশতিয়াক শাহরিয়ার বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ে যাঁরা আগে উত্তর দিয়েছেন, তাঁরাই বিজয়ী হয়েছেন। যেহেতু সময়টা বেঁধে দেওয়া, তাই চাইলেও কারও পক্ষে অন্য ট্যাবে গিয়ে উত্তর জেনে এসে কুইজে অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল না। তাই আমরা বলতে পারি, যাঁরা বিজয়ী হয়েছেন প্রত্যেকেই ফুটবল সম্পর্কে যথেষ্ট জানেন। যাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে কোনো ধরনের কারিগরি সমস্যা ছাড়াই আয়োজনটি সম্পন্ন হয়েছে, সবাইকে ধন্যবাদ।’

বিশ্বকাপ উপলক্ষে মুক্তকণ্ঠের নানা আয়োজনের কথা তুলে ধরে মুক্তকণ্ঠের হেড অব অনলাইন শওকত হোসেন বলেন, ‘ফুটবল বিশ্বকাপকে বলা হয় “পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ প্রদর্শনী”। আর আমার জানামতে, ফুটবল সিগমা ছিল বিশ্বের মধ্যে অন্যতম বড় একটি কুইজ আয়োজন। বিকাশের সঙ্গে মুক্তকণ্ঠের সম্পর্কটা পুরোনো। তাই চার বছর অপেক্ষা না করে নিয়মিতভাবে পাঠক ও গ্রাহকদের জন্য এ ধরনের নতুন নতুন ক্যাম্পেইন আয়োজন করতে চাই আমরা।’

মুক্তকণ্ঠের প্রধান ক্রীড়া সম্পাদক উৎপল শুভ্র বলেন, ‘ফুটবল সিগমার মতো ব্যতিক্রমী আয়োজনের মাধ্যমে লাখ লাখ ফুটবলপ্রেমীকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করে রাখতে পেরেছে বিকাশ। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন।’

ফুটবল সিগমা আয়োজনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে মুক্তকণ্ঠের চিফ ডিজিটাল বিজনেস অফিসার এ বি এম জাবেদ সুলতান বলেন, ‘গত ২৬ বছরে আমরা অনেক স্পোর্টস ইভেন্ট করেছি। তার মধ্যে এটি অনেক বড় পরিসরের উদ্যোগ ছিল। ভবিষ্যতেও এ ধরনের বড় এবং নতুন কোনো আয়োজনে বিকাশ এবং পাঠক–দর্শকদেরকে আমরা সঙ্গে পাব বলে প্রত্যাশা করি।’

আইফোন বিজয়ী মো. ফারুক মিয়া বলেন, ‘মুক্তকণ্ঠ থেকে ফোন করে যখন পুরস্কারের কথা বলল, আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না। মনে হয়েছিল কেউ প্রতারণা করার জন্য ফোন দিয়েছে। তারপর আমি মুক্তকণ্ঠের ওয়েবসাইট থেকে অফিসের নম্বর নিয়ে যোগাযোগ করে তথ্যটা যাচাই করি। তারপর বুঝলাম, সত্যিই আমি আইফোন পেয়েছি। বিকাশ ও মুক্তকণ্ঠকে ধন্যবাদ, আমার জীবনের অন্যতম একটি স্মরণীয় দিন উপহার দেওয়ার জন্য।’

অন্য চারজন মেগা বিজয়ীও ‘ফুটবল সিগমা’র মতো ব্যতিক্রমী ক্যাম্পেইন আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানান।

বিশ্বকাপ চলাকালে ৩৯ দিনই কুইজ প্রতিযোগিতাটি চলে। footballsigma.prothomalo.com ওয়েবসাইটে প্রতিদিনের লিডারবোর্ডে থাকা শীর্ষ ১১ জন অংশগ্রহণকারীর প্রত্যেকে পেয়েছেন বিকাশে ১ হাজার টাকা করে পুরস্কার। পুরো টুর্নামেন্টে প্রতিদিনের বিজয়ী হিসেবে মোট পুরস্কার পান ৪২৯ জন।

কুইজ চলাকালে ফুটবল সিগমার ওয়েবসাইটে ভিজিটর ছিলেন ৩০ লাখ ৩০ হাজার জন। নিবন্ধিত অ্যাকাউন্টধারী ছিল ১ লাখ ৬০ হাজার ৫২২ জন। কুইজ খেলা হয়েছে মোট ৪ লাখ ৭ হাজার ৩৮২ বার। ক্যাম্পেইনটি ৫০ কোটির বেশি ডিজিটাল ইম্প্রেশন জেনারেট করেছে।

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিকাশের ইভিপি ও হেড অব ম্যানেজমেন্ট রিপোর্টিং অ্যান্ড প্ল্যানিং মো. ফুয়াদ হাসান এবং অফিসার মো. সামাউন সাজির, পিআর অ্যান্ড মিডিয়া রিলেশনস বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার রুকসানা আক্তার, ডিজিটাল অ্যাসেটস অ্যান্ড কমিউনিকেশনস বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার মইদুল ইসলাম খান ও ম্যানেজার সাকিব মাহবুব এবং মুক্তকণ্ঠের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (বিজনেস ডেভেলপমেন্ট) রুহুল আমিন রনি, ডিজিটাল মার্কেটিং লিড মেহবুব জাবেদ, উপব্যবস্থাপক ভক্ত সাগর উর্মি নিতু, জ্যেষ্ঠ নির্বাহী নুসরাত জাহান প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুক্তকণ্ঠের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ডিজিটাল কনটেন্ট) খায়রুল বাবুই।