সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরীর স্ত্রী পারভিন আক্তারের দায়ের করা একটি মামলা বর্তমানে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এমপির গলায় ‘দা’ ধরে ভয় দেখিয়ে সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে তার তিন সৎভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে পারিবারিক সমঝোতার আহ্বান জানিয়ে এমপি নাছির চৌধুরীর প্রতি একটি খোলা চিঠি লিখেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে ‘শিশির মনির মিডিয়া সেল’-এর ফেসবুক পেজে প্রচারিত ওই চিঠিতে লেখা হয়েছে, “চলমান পরিস্থিতিতে সমঝোতার উদ্যোগ গ্রহণ প্রসঙ্গে। জনাব, আমি জানি এই চিঠি পড়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার মতো শারীরিক ও মানসিক অবস্থা আপনার বর্তমানে নেই। তথাপি আপনার প্রিয়জনরা হয়তো আপনাকে বিষয়টি অবগত করবেন।”

চিঠিতে আরও বলা হয়, “বিষয়টি ছিল একান্তই আপনার পারিবারিক। কিন্তু বর্তমানে তা আর পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, দেশজুড়ে আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আমরা দিরাই-শাল্লার মানুষ হওয়ায় যেখানেই যাই, মানুষ আমাদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে। এটি আমাদের সম্মিলিত লজ্জা। এই বয়সে আপনাকে নিয়ে এমন ঘটনা ঘটা মোটেই কাম্য নয়। আপনার লজ্জা আর আমাদের লজ্জা আজ মিলেমিশে একাকার। আপনি আমাদের নির্বাচিত নেতা, তাই আমরা যারপরনাই উদ্বিগ্ন। আপনি কত মানুষের সমস্যার সমাধান করেছেন, অথচ আজ আপনি নিজেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু! তাই বিষয়টি আর বাড়তে দেওয়া ঠিক হবে না। এখানেই ইতি টানুন এবং নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করে নিন—এটাই প্রত্যাশা।”

এর আগে সোমবার (১০ আগস্ট) সুনামগঞ্জের দিরাই জোনের আমলগ্রহণকারী আদালতে পারভিন আক্তার এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তার অসুস্থ স্বামীকে গলায় ‘দা’ ধরে ভয় দেখিয়ে বাড়ি ও বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি জোরপূর্বক রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন তার সৎভাইরা।

মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন নাছির চৌধুরীর সৎভাই ও দিরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন চৌধুরী (মাসুক চৌধুরী), মিজানুর রহমান চৌধুরী এবং মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী। এছাড়া অন্যান্য আসামিরা হলেন—মাতারগাঁও গ্রামের মৃত নাজমুল ইসলামের ছেলে আমিরুল ইসলাম, পুরাতন কর্ণগাঁও গ্রামের আব্দুন নুর মিয়ার ছেলে ছয়ফুল চৌধুরী, তল বাউসী গ্রামের দলিল লেখক মুজিবুর রহমান, কলিয়ার কাপনের নাজমুল ইসলামের ছেলে তাজুল ইসলাম এবং দিরাইয়ের নুরুল ইসলামের মেয়ে মোহরার মমতাজ বেগম।

তবে মামলার প্রধান আসামি মঈন উদ্দিন চৌধুরী (মাসুক চৌধুরী) এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, মামলায় উল্লেখিত সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন এবং তারা আইনগতভাবেই এই মামলার মোকাবিলা করবেন।