পেস বোলিং কিংবা স্পিন বোলিং—দুই ধরনের বোলিংই পারেন এমন অলরাউন্ডার সত্যিই কম দেখা যায়। বো ওয়েবস্টার সেই বিরল তালিকার একজন ক্রিকেটার। তবে ডারউইনে আজ সকালে সংবাদ সম্মেলনে শ্মশ্রুমণ্ডিত ওয়েবস্টারকে দেখে দাড়ির অনুপ্রেরণা জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান ভিন্ন এক কারণ।

অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডারের উত্তর, ‘আলস্য। বেশ কিছুদিন ধরে বাইরে আছি। সাধারণত আমার মা আমার চুল কাটেন। তিনি হেয়ারড্রেসার। আমি বাড়ি যেতে পারিনি, সম্ভবত এটিই এর কারণ।’

এরপরই আলাপকালে ওয়েবস্টার জানান, ইংল্যান্ডের ঘরোয়া টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টে খেলার পর তিনি এখন অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের সঙ্গে টেস্টের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। ডারউইনে আগামী পরশু বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ। মাত্র ৮ টেস্টের ক্যারিয়ারে ভারত, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন ওয়েবস্টার—তাই বাংলাদেশ সম্পর্কে তাঁর সরাসরি ধারণা কম বলেই মনে করা হচ্ছিল। তবে একজনের প্রসঙ্গ উঠতেই বোঝা গেল, তাঁর কান পর্যন্ত পৌঁছেছে সেই নাম—নাহিদ রানা।

ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের সম্ভাবনা, চোটের কারণে নাহিদ রানার অনুপস্থিতি—এসব বিষয়ে ওয়েবস্টারের কাছে জানতে চাওয়া হয়। উত্তরে তিনি নাহিদ রানার অনুপস্থিতিকেই গুরুত্ব দেন। ওয়েবস্টারের বক্তব্য ছিল, ‘(নাহিদের অনুপস্থিতি) দলের জন্য বড় ধাক্কা। ওয়ানডেতে ১৪৫ (কিমি) এর ওপরে আমরা তাঁকে বল করতে দেখেছি। এমন কাউকে আক্রমণে না পাওয়া... সে সত্যিকারের হুমকি।’

ওয়েবস্টার এরপর যোগ করেন, ‘সেই ওয়ানডে সিরিজে খেলা কয়েকজন ক্রিকেটারের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি যে সে বেশ আক্রমণাত্মক মেজাজের এবং ব্যাটসম্যানদের ওপর দারুণ চাপ সৃষ্টি করে। আক্রমণে এমন কারও অনুপস্থিতিতে কাজটা কঠিন হয়ে ওঠে।’

ওয়েবস্টার যে ওয়ানডে সিরিজটির কথা বলেছেন, সেটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত জুনে। ঘরের মাঠে সেই সিরিজ ২–১ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ। ২ ম্যাচে ৪ উইকেট নেন নাহিদ।

২৩ বছর পর দ্বিপক্ষীয় টেস্ট সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় গেছে বাংলাদেশ। তবে চোটের কারণে সেই সফরে নেই নাহিদ রানা। অস্ট্রেলিয়া সফরে আছেন বাংলাদেশের চার পেসার—তাসকিন আহমেদ, মুশফিক হাসান, ইবাদত হোসেন ও খালেদ আহমেদ। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামের উইকেট নিয়েও টেস্টের প্রেক্ষাপট আলাদা; কারণ, সেখানে টেস্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২২ বছর পর। ফলে বর্তমান জাতীয় দলের সঙ্গে সরাসরি পরিচিতির অভাবও আছে।

ওয়েবস্টারের কথায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়—উইকেট ও বাংলাদেশের বাকি বোলারদের পারফরম্যান্স নিয়ে তাঁর নিশ্চিত ধারণা নেই। তিনি বলেন, ‘কন্ডিশনের মতোই তাদের বোলাররা এবং ওই উইকেটে তারা কেমন করবে, সে বিষয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ ৬ টেস্ট খেলে মাত্র একবার জিতেছে। হেরেছে বাকি ৫ ম্যাচেই। এর মধ্যে ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সর্বশেষ সিরিজে দুই টেস্টেই হেরেছে ইনিংস ব্যবধানে।