কুড়িগ্রাম পৌর শহরের পুরাতন রেলস্টেশন পাড়ার বাসিন্দা মো. হামু মিয়ার ছেলে মো. হাসিবুল হাসান বিজয় এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করে অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছে। তবে তীব্র আর্থিক সংকটের কারণে এই স্মরণীয় দিনে পরিবারটিতে কোনো উৎসব বা মিষ্টিমুখের আয়োজন ছিল না। সন্তানের এই অর্জনে ঘরে বিরাজ করছিল নীরবতা।

বিজয়ের এই কৃতিত্বের কথা জানতে পেরে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) তার বাড়িতে উপহার হিসেবে ফলের ঝুড়ি ও মিষ্টি নিয়ে হাজির হন কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল রানা। আর্থিক অনটনে বিপর্যস্ত এই পরিবারটির সঙ্গে আনন্দের মুহূর্তগুলো ভাগ করে নিতে তিনি নিজ উদ্যোগে এই পদক্ষেপ নেন।

কুড়িগ্রাম রিভারভিউ উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে হাসিবুল হাসান বিজয়। নানা প্রতিকূলতা ও অভাবের সঙ্গে লড়াই করে সে এই মেধার স্বাক্ষর রেখেছে। হঠাৎ ফলের ঝুড়ি ও মিষ্টি হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন দিনমজুর পিতা হামু মিয়া। সন্তানের সাফল্য এবং সোহেল রানার এই মানবিক সহানুভূতিতে তার চোখ অশ্রুসজল হয়ে ওঠে।

প্রতিবেশী মোছা. আনোয়ারা বেগম বলেন, "হামু মিয়া খুবই গরিব মানুষ। অনেক কষ্ট ও স্বজনদের সহায়তায় ছেলেকে এত দূর পড়াশোনা করিয়েছেন। ছেলের এই ফলাফলে পুরো এলাকা গর্বিত। আমরা চাই, বিজয় যেন ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যায়।"

আবেগ সামলে হামু মিয়া বলেন, "আমরা গরিব মানুষ, ছেলের ফলাফলের দিনে মিষ্টি কিনে আনন্দ করার সামর্থ্যও ছিল না। সোহেল রানা ভাই খবর পেয়ে নিজে ফল ও মিষ্টি নিয়ে আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। আমরা এতে অনেক আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। সবাই আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন।"

কৃতী শিক্ষার্থী মো. হাসিবুল হাসান বিজয় মুক্তকণ্ঠকে জানান, "আমার ফলাফলের খবর শুনে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা ভাই যেভাবে এসে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তার জন্য আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। আমার মতো অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে তিনি এবং সমাজের সামর্থ্যবানরা এভাবেই সবসময় থাকবেন—এটাই প্রত্যাশা।"

এই বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল রানা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "শিক্ষার্থীদের সাফল্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে। কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যেন অর্থের অভাবে ঝরে না পড়ে, সেজন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত। ছাত্রদল সর্বদা শিক্ষার্থীদের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।"